সকাল সকাল ডেস্ক
নয়াদিল্লি : গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার পরই দিল্লির রাজঘাটে গিয়ে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো। রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা জানানোর পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
সোনম ওয়াংচুক বলেন, “২৬ দিনব্যাপী অনশন ও আন্দোলনের সমাপ্তির পর আমার প্রথম ইচ্ছাই ছিল রাজঘাটে এসে মহাত্মা গান্ধীকে শ্রদ্ধা জানানো। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার পাশাপাশি দেশবাসীকে জানাতে চাই, তিনি যে অহিংস আন্দোলনের পথ দেখিয়েছিলেন, একশো বছর আগে যেমন তা প্রাসঙ্গিক ছিল, আজও তেমনই কার্যকর ও সময়োপযোগী।”
তিনি আরও বলেন, “গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে লাদাখে আমরা গান্ধীজির দেখানো পথ অনুসরণ করে আন্দোলন চালিয়ে আসছি এবং তার ইতিবাচক ফলও পেয়েছি। তবে জাতীয় স্তরে এই পথ কতটা কার্যকর হতে পারে, তা নিয়ে আমার মনে সংশয় ছিল। সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা আমাকে বিশ্বাস করিয়েছে, একশো বছর পরেও এই পথ সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। আমার বিশ্বাস, আগামী শতাব্দীগুলিতেও এই দর্শনের গুরুত্ব অটুট থাকবে।”
দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা দিয়ে ওয়াংচুক বলেন, “আমি ভারত ও বিশ্বের মানুষের কাছে আবেদন জানাই, নিজেদের দাবি ও সমস্যার সমাধানের জন্য বাপুর দেখানো শান্তি ও অহিংসার পথেই এগিয়ে চলুন। সমাধান পেতে সময় লাগতে পারে, কিন্তু এই পথ কখনও অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায় না। প্রথম প্রচেষ্টাতেই সাফল্য নাও আসতে পারে, তবে ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ইতিবাচক ফল অবশ্যই পাওয়া সম্ভব।”
আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সমাজকর্মী বলেন, “দেশের তরুণ সমাজ, সাধারণ মানুষ, প্রবীণ নাগরিক এবং যাঁরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে এই আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, তাঁদের প্রত্যেককে আমি অভিনন্দন জানাই। এই আন্দোলন প্রমাণ করেছে, কোনও সাফল্য শক্তি প্রয়োগ, লাঠি কিংবা পাথরের মাধ্যমে অর্জিত হয় না। প্রকৃত সাফল্য আসে শান্তিপূর্ণ অবস্থান, আত্মত্যাগ এবং কষ্ট সহ্য করার মানসিকতার মধ্য দিয়ে।”
তিনি বলেন, অহিংস আন্দোলনের শক্তিই গণতন্ত্রের অন্যতম বড় ভিত্তি এবং ভবিষ্যতেও এই পথেই সামাজিক ও জাতীয় সমস্যার সমাধান খুঁজে নেওয়া সম্ভব।
No Comment! Be the first one.