সকাল সকাল ডেস্ক
টানা সাত ঘণ্টার হামলায় কিয়েভে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ। জেলেনস্কির আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আর্জি, রাশিয়ার দাবি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই হামলা।
Russia Ukraine War: কিয়েভে রাশিয়ার রকেট-ড্রোন হামলা, নিহত ২৭ বেসামরিক
কিয়েভ : Russia Ukraine War নতুন করে ভয়াবহ মোড় নিল। বুধবার গভীর রাতে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ব্যাপক রকেট ও ড্রোন হামলায় অন্তত ২৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৯ জন। হামলায় রাজধানীর একাধিক আবাসিক ভবন, খাদ্য গুদাম, বিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেন সরকারের দাবি, এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় হামলা।
এই হামলার পর প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আরও কঠোর পদক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, Russia Ukraine War-এর উত্তেজনা আবারও নতুন মাত্রা পেল।
হামলার আগে সতর্ক করেছিলেন জেলেনস্কি
হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্ভাব্য রুশ হামলার বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করেছিলেন।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবুও গভীর রাতে শুরু হওয়া রকেট ও ড্রোন হামলায় বহু মানুষ হতাহত হন।
হামলার পর জাতির উদ্দেশে ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া আবারও প্রমাণ করেছে যে তারা বেসামরিক মানুষের জীবনকে গুরুত্ব দেয় না। তিনি জানান, ইউক্রেন এই হামলার উপযুক্ত জবাব দেবে এবং দেশের প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করা হবে।

আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আবেদন
জেলেনস্কি পশ্চিমা দেশগুলির কাছে আহ্বান জানিয়েছেন—
- রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা
- উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
- অতিরিক্ত সামরিক সহায়তা
- মানবিক ত্রাণ বৃদ্ধি
- আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ জোরদার
তাঁর অভিযোগ, রাশিয়ার লক্ষ্য শুধু সামরিক স্থাপনা নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক পরিকাঠামো অচল করে দেওয়া।
রাশিয়ার দাবি কী?
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক দাবি করেছে, কিয়েভে পরিচালিত হামলার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের সামরিক ঘাঁটি, অস্ত্রভাণ্ডার এবং কমান্ড সেন্টার।
মস্কোর বক্তব্য, সাম্প্রতিক ইউক্রেনীয় হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। রাশিয়া বেসামরিক এলাকায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আবাসিক এলাকায় ব্যাপক ধ্বংস
ইউক্রেনের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর তকাচেনকো জানিয়েছেন, হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আবাসিক এলাকা।
তিনি জানান—
- একাধিক বহুতল ভবনের অংশ ধসে পড়েছে
- বহু গাড়িতে আগুন লেগেছে
- বিস্ফোরণে আশপাশের ভবনের জানালা ও দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
তাঁর অভিযোগ, এই হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও যুদ্ধবিধির লঙ্ঘন।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ

সাত ঘণ্টা ধরে চলল হামলা
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে ধারাবাহিকভাবে রকেট ও ড্রোন হামলা চলে।
এই সময় হাজার হাজার মানুষ নিরাপত্তার জন্য—
- মেট্রো স্টেশন
- ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার
- সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেন।
তাঁর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে এটি অন্যতম দীর্ঘ ও পরিকল্পিত হামলা।
খাদ্য ও স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন সংকট
হামলায় রাজধানীর একটি বড় খাদ্য গুদাম ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী নষ্ট হয়েছে।
ফলে—
- খাদ্য সরবরাহে চাপ বেড়েছে
- নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা
- মানবিক সংকট আরও তীব্র হতে পারে
অন্যদিকে হাসপাতালগুলিতেও সংকট দেখা দিয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে—
- বহু চিকিৎসককে সামরিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে
- সাধারণ হাসপাতালে শয্যা সংকট তৈরি হয়েছে
- জরুরি ওষুধ, রক্ত ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
উদ্ধার অভিযান চলছে
হামলার পর জরুরি পরিষেবা, দমকল বাহিনী এবং উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি শুরু করেছে।
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা এবং বিভিন্ন ভবনে আগুন জ্বলতে থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন। ফলে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
সাম্প্রতিক হামলার পর পশ্চিমা দেশগুলির মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
ইউক্রেন আশা করছে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় দেশগুলি দ্রুত নতুন সামরিক সহায়তা, উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং মানবিক সহায়তার ঘোষণা করবে।
Background
২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ একাধিকবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে উভয় পক্ষই দূরপাল্লার হামলা আরও বাড়িয়েছে।
Impact
- রাজধানীতে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি।
- খাদ্য ও চিকিৎসা পরিষেবার ওপর নতুন চাপ।
- পশ্চিমা সামরিক সহায়তা বাড়ানোর সম্ভাবনা।
- Russia Ukraine War আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা।
- ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ।
Official Statement
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার এই হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক দাবি করেছে, হামলার লক্ষ্য ছিল শুধুমাত্র সামরিক স্থাপনা।
Public Information
কিয়েভ প্রশাসন নাগরিকদের সতর্ক থাকতে, বিমান হামলার সাইরেন বাজলে অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার এবং সরকারি নির্দেশিকা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।
No Comment! Be the first one.