রাষ্ট্রসংঘে ফের কাশ্মীর প্রসঙ্গ এরদোয়ানের, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান

সকাল সকাল ডেস্ক

নিউইয়র্ক: রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের মঞ্চে ফের কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুললেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, কাশ্মীর-সহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন বিরোধ রাষ্ট্রসংঘের সনদ ও প্রাসঙ্গিক প্রস্তাবের কাঠামোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্যের সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও উপস্থিত ছিলেন।

এরদোয়ান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় কাশ্মীর-সহ সমস্ত বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে মোকাবিলা করা গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রসংঘের সনদ ও সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলির কাঠামোর মধ্যেই সেই আলোচনা হওয়া উচিত বলে মত দেন তিনি। কাশ্মীর নিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের এই অবস্থান নতুন নয়। এর আগেও একাধিকবার রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের মঞ্চে বিষয়টি তুলেছেন তিনি।

কাশ্মীর প্রশ্নে তৃতীয় পক্ষের ভূমিকার বিরোধিতা করে এসেছে ভারত। নয়াদিল্লির ধারাবাহিক অবস্থান হল, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি দ্বিপাক্ষিকভাবেই সমাধান করা উচিত। এই প্রসঙ্গে ভারত ১৯৭২ সালের শিমলা চুক্তির কথাও উল্লেখ করে এসেছে, যেখানে দুই দেশ শান্তিপূর্ণ ও দ্বিপাক্ষিক উপায়ে মতপার্থক্য মেটানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।

এরদোয়ান অতীতেও কাশ্মীর নিয়ে রাষ্ট্রসংঘে মন্তব্য করেছেন। ২০১৯ সালে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদের অধীনে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর রাষ্ট্রসংঘের ৭৪তম সাধারণ অধিবেশনে বিষয়টি তুলেছিলেন তিনি। ২০২১ সালেও কাশ্মীর নিয়ে মন্তব্য করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। তবে ২০২৪ সালের ভাষণে কাশ্মীরের উল্লেখ করেননি। ২০২৫ সালে ফের রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে বিষয়টি তোলেন তিনি।

তুরস্ক ও পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্কের আবহে এরদোয়ানের এবারের মন্তব্য নতুন করে নজর কেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতাও আরও বিস্তৃত হয়েছে। তবে কাশ্মীর নিয়ে আঙ্কারার বক্তব্য এবং নয়াদিল্লির অবস্থানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই স্পষ্ট মতপার্থক্য রয়েছে।

কাশ্মীরের পাশাপাশি রাষ্ট্রসংঘের ভাষণে গাজার পরিস্থিতি, প্যালেস্তাইনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের বিষয়েও সরব হন এরদোয়ান। তিনি নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামোর সমালোচনা করে আরও বিস্তৃত সংস্কারের দাবি জানান। গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।

ফলে রাষ্ট্রসংঘের চলতি অধিবেশনে এরদোয়ানের কাশ্মীর মন্তব্য ফের ভারত-তুরস্কের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক মতপার্থক্যকে সামনে নিয়ে এসেছে। একদিকে এরদোয়ান রাষ্ট্রসংঘের কাঠামোর মধ্যে আলোচনার কথা বলেছেন, অন্যদিকে ভারতের অবস্থান হল, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি দ্বিপাক্ষিক কাঠামোর মধ্যেই মোকাবিলা করা হবে।

Read More News

Read More