সকাল সকাল ডেস্ক
ওয়াশিংটন: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নিয়ে উদ্বেগজনক ছবি উঠে এসেছে একাধিক জনমত সমীক্ষায়। অর্থনীতি, মূল্যবৃদ্ধি এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বহু মার্কিন নাগরিক। সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষায় মাত্র ৩৪ শতাংশ ভোটার ট্রাম্পের কাজকর্মে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অর্থনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর উপর আস্থা রয়েছে মাত্র ২৫ শতাংশের। আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই পরিসংখ্যান রিপাবলিকান শিবিরের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ফিনানশিয়াল টাইমস ও ফোকালডেটার যৌথ সমীক্ষায় এই তথ্য উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। গত ২ থেকে ৪ অক্টোবরের মধ্যে ২,২৭৫ জন নথিভুক্ত ভোটারের মতামত সংগ্রহ করা হয়। সমীক্ষা অনুযায়ী, ট্রাম্পের কাজকর্মে সন্তুষ্ট ৩৪ শতাংশ ভোটার। অন্যদিকে, ৪৫ শতাংশের আশঙ্কা, প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচনী সম্ভাবনার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সমীক্ষায় অসন্তোষের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভোটারদের একাংশ। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপে সন্তুষ্ট মাত্র ২০ শতাংশের কাছাকাছি মানুষ। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মনে করছেন, আমেরিকা সঠিক পথে এগোচ্ছে না।
রয়টার্স ও ইপসসের পৃথক সমীক্ষাতেও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কম থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের কাজকর্মে সন্তুষ্ট ৩২ শতাংশ আমেরিকান। নথিভুক্ত ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ৪৪ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ৩৭ শতাংশ। নির্দল ভোটারদের মধ্যেও ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ৩৭ শতাংশ, রিপাবলিকানদের ২১ শতাংশ বলে জানানো হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ায় ইরানকে ঘিরে সংঘাতও মার্কিন অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও এনওআরসি-র সমীক্ষা অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ভূমিকায় সন্তুষ্ট মাত্র ১৭ শতাংশ মানুষ। অর্থনীতি পরিচালনায় তাঁর উপর আস্থা রয়েছে ২৬ শতাংশের। পাশাপাশি ৬৫ শতাংশ উত্তরদাতা মূল্যবৃদ্ধির জন্য ট্রাম্পের নীতিকে দায়ী করেছেন।
আগামী ৩ নভেম্বর আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষের রাজনৈতিক ভারসাম্য নির্ধারিত হবে। রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ আইন পাশ করানো কঠিন হতে পারে। পাশাপাশি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের উপর কংগ্রেসের নজরদারি বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে জনমত সমীক্ষার ফলাফল নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের নিশ্চয়তা দেয় না। রিপাবলিকান সমর্থকদের একটি বড় অংশ এখনও দলের প্রার্থীদের পাশে রয়েছেন। ফলে নির্বাচনের আগে ভোটারদের মনোভাব কতটা পরিবর্তিত হয় এবং অর্থনৈতিক অসন্তোষ ভোটদানে কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।
No Comment! Be the first one.