হুথি হামলার পর ‘মক্কা প্যাক্ট’ নিয়ে প্রশ্ন, সামরিক পদক্ষেপে সতর্ক পাকিস্তান

সকাল সকাল ডেস্ক

রিয়াধ: পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সমঝোতা ‘মক্কা প্যাক্ট’ স্বাক্ষরের পর হুথি হামলা নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, সদস্য কোনও দেশের উপর বাইরের শক্তির হামলাকে তিন দেশের বিরুদ্ধেই আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করার কথা। কিন্তু সৌদি আরবে হুথি হামলার পর পাকিস্তান সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের প্রশ্নে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন সাহায্য চেয়েও রিয়াধ সরাসরি সামরিক সহযোগিতার আশ্বাস পায়নি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

সৌদি আরবে হুথি হামলার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, ‘মক্কা প্যাক্ট’-এর আওতায় পাকিস্তান ও তুরস্ক কী ভূমিকা নেবে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ হামলার পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেও ইসলামাবাদের বিদেশমন্ত্রক সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা থেকে আপাতত দূরত্ব বজায় রেখেছে।

পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে এমন কোনও পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না। প্রয়োজন হলে উপযুক্ত সময়ে চুক্তির আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাকিস্তানের তরফে আরও যুক্তি দেওয়া হয়েছে, পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত ওই সমঝোতা পূর্ব থেকে চলতে থাকা কোনও সংঘাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ চুক্তি স্বাক্ষরের পর নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের ক্ষেত্রেই তার শর্ত কার্যকর হওয়ার কথা।

এই অবস্থানের ফলে হুথিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের অবিলম্বে সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা কার্যত কমেছে।

এদিকে, ‘অ্যাক্সিওস’-এর প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, পরিস্থিতি ঘোরালো হওয়ায় সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেন। হুথিদের অগ্রগতি এবং উপকূলীয় মোখা এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে রিয়াধের উদ্বেগের কথাও ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ওয়াশিংটনও আপাতত হুথি-সৌদি সংঘাতে সরাসরি সামরিক ভাবে জড়াতে আগ্রহী নয় বলে দাবি। পরিবর্তে হুথিদের গতিবিধি সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য সৌদি আরবকে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক কৌশলে ইরানের দিকে নজর রাখা এবং হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ‘মক্কা প্যাক্ট’-এর আর এক সদস্য তুরস্কের ভূমিকার দিকেও নজর রয়েছে। তবে আঞ্চলিক কৌশলগত স্বার্থের কারণে রিয়াধ আঙ্কারার কাছে সরাসরি সামরিক সাহায্য চাইবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষত বাব আল-মান্দাব প্রণালী ও সংলগ্ন অঞ্চলে তুরস্কের প্রভাব বৃদ্ধির সম্ভাবনা সৌদি আরবের কূটনৈতিক হিসাবকে আরও জটিল করতে পারে।

সব মিলিয়ে হুথি হামলা সৌদি আরবের নতুন প্রতিরক্ষা সমঝোতার কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পাকিস্তান আপাতত সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ থেকে দূরে, আর আমেরিকাও প্রত্যক্ষ সংঘাতে নামার পরিবর্তে সীমিত সহযোগিতার পথে থাকতে চাইছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি। ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী দিনে রিয়াধ কোন কৌশল নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে।

Read More News

ভারত এখন আত্মবিশ্বাসী ও সক্ষম রাষ্ট্র, বিশ্বমঞ্চে নিয়ম নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে: রাজনাথ সিং

সকাল সকাল ডেস্ক লখনউ : ভারত আজ শুধু বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতি নয়, বরং নিজস্ব সভ্যতা,...

Read More