সকাল সকাল ডেস্ক
ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ডাকা লং মার্চকে কেন্দ্র করে রাজধানী ইসলামাবাদ কার্যত দুর্গে পরিণত হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের রাজধানীতে প্রবেশ ঠেকাতে ব্যাপক সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করেছে প্রশাসন। সরকারের স্পষ্ট ঘোষণা, কোনও অবস্থাতেই পিটিআই সমর্থকদের ইসলামাবাদে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
গত মাসে পিটিআই লং মার্চের ঘোষণা করার পর থেকেই রাজধানীর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। ইসলামাবাদ ও সংলগ্ন রাওয়ালপিন্ডিতে চলছে কড়া নজরদারি। ছয় দিন আগে খাইবার পাখতুনখাওয়া থেকে শুরু হওয়া লং মার্চ প্রশাসনের বাধায় আটকে পড়েছে। হাজার হাজার পিটিআই সমর্থক সড়ক ও বিভিন্ন পার্কে অবস্থান করছেন। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তাবাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষের খবরও পাওয়া গিয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ আগেই জানিয়েছিলেন, আন্দোলনকারীদের রাজধানীতে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারির বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। শুক্রবার মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় ক্ষমতায় রয়েছে ইমরানের দল পিটিআই। তা সত্ত্বেও প্রদেশের বিভিন্ন জেলার সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। পেশোয়ারে হাজার হাজার সমর্থক রাজপথে অবস্থান করছেন। প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তথা পিটিআই নেতা সোহেল আফ্রিদি জানিয়েছেন, রাজধানীতে পৌঁছনোর বিকল্প পথ খোঁজা হচ্ছে। তবে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি আগাম প্রকাশ করা হবে না।
এদিকে, খাইবার পাখতুনখাওয়া ও পাঞ্জাবের সংযোগস্থলের দিকে বিক্ষোভকারীদের অগ্রসর হওয়ার খবরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রদেশের গভর্নর ফয়সল করিম কুন্ডি আন্দোলনকারীদের সতর্ক করে জানিয়েছেন, প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এগোনোর চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দি রয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে তাঁর মুক্তির দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে পিটিআই। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে ইমরানের দীর্ঘদিনের সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
সম্প্রতি ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে। তাঁর চিকিৎসা ও কারাবন্দি অবস্থার বিষয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমর্থকেরা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলের একাংশও তাঁর চিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে সরব হয়েছে।
সব মিলিয়ে ইমরানের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন এবং তা দমনে সরকারের কঠোর অবস্থানের জেরে পাকিস্তানে রাজনৈতিক অস্থিরতা ক্রমশ বাড়ছে। আগামী দিনে পিটিআইয়ের কর্মসূচি ঘিরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
No Comment! Be the first one.