সকাল সকাল ডেস্ক
বেইজিং: যুক্তরাষ্ট্রের কালোতালিকাভুক্তির জবাবে প্রতিরক্ষা ও বিরল খনিজ খাতের সঙ্গে যুক্ত ১০টি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে চীন। সোমবার চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছে।
সম্প্রতি ওয়াশিংটন ৮০টি চীনা কোম্পানি ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে কালোতালিকাভুক্ত করে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান চীনা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত বা তাদের প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করছে। তালিকায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আলিবাবা, বাইদু এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা বিওয়াইডির নামও রয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় বেইজিং জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং মার্কিন পদক্ষেপের জবাব দিতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘চীনা সামরিক এন্টারপ্রাইজ’ তালিকাভুক্তি একটি ‘অত্যন্ত আপত্তিকর পদক্ষেপ’।
নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে সামরিক যান নির্মাতা ওশকোশ ডিফেন্স, মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা খাতের প্রতিষ্ঠান অ্যাভিওক্স, বিরল খনিজ উৎপাদক এমপি মেটেরিয়ালস এবং ইউএসএ রেয়ার আর্থ।
চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সামরিক ও বেসামরিক উভয় কাজে ব্যবহারযোগ্য দ্বৈত-ব্যবহার সামগ্রী রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি চলমান রপ্তানি কার্যক্রমও অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু চীনা রপ্তানিকারক নয়, অন্য কোনও দেশ বা অঞ্চলের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানও এই পণ্যগুলো তালিকাভুক্ত মার্কিন কোম্পানির কাছে সরবরাহ করতে পারবে না।
এদিকে চীনের অর্থ মন্ত্রণালয় পৃথক এক ঘোষণায় জানিয়েছে, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় ৪৬টি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের পণ্য কেনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে লকহিড মার্টিন, রেথিয়ন, বোয়িং ডিফেন্স, জেনারেল ডাইনামিকস এবং অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজের মতো শীর্ষ প্রতিরক্ষা সংস্থা।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক পদক্ষেপ দুই বৃহৎ অর্থনীতির মধ্যে প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে বেইজিং ও ওয়াশিংটন বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে, তবুও জাতীয় নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও তাইওয়ান ইস্যুতে দুই দেশের মতবিরোধ এখনও গভীর।
চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলো সোমবার থেকেই কার্যকর হয়েছে। তবে চীনে ব্যবসা পরিচালনাকারী মার্কিন বিনিয়োগযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে।
No Comment! Be the first one.