ফ্লাইদুবাই কাণ্ডে কূটনৈতিক টানাপোড়েন, ইজরায়েলি সামরিক বিমানকে অনুমতি দিল না সৌদি

সকাল সকাল ডেস্ক

রিয়াধ: দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানের জরুরি অবতরণ ঘিরে নতুন করে আলোচনায় সৌদি আরব ও ইজরায়েলের সম্পর্ক। বিমানে থাকা ইজরায়েলি যাত্রীদের দেশে ফেরাতে সৌদি আরবে বিশেষ সামরিক পরিবহণ বিমান পাঠাতে চেয়েছিল ইজরায়েল। কিন্তু সেই বিমানকে নিজেদের আকাশসীমায় প্রবেশ এবং বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি দেয়নি রিয়াধ বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের একাংশে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানকে ঘিরে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দাবি, বিমানটি আকাশে থাকার সময় ককপিটে গুরুতর নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনা ঘটে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কো-পাইলট আচমকা পাইলটকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন এবং বিমানটিকে দুর্ঘটনার মুখে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

নেতানিয়াহুর দাবি, পরিস্থিতি বুঝতে পেরে বিমানের কয়েক জন যাত্রী দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন। তাঁরা অভিযুক্ত কো-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর বিমানটি সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

ঘটনার পর সৌদি আরবে আটকে পড়া ইজরায়েলি যাত্রীদের দেশে ফেরানোর উদ্যোগ শুরু করে তেল আভিভ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যাত্রীদের উদ্ধারে একটি বিশেষ ‘সুপার হারকিউলিস’ সামরিক পরিবহণ বিমান পাঠানোর জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের অনুমতি চেয়েছিল ইজরায়েল।

কিন্তু ইজরায়েলি সামরিক বিমানকে সৌদি আকাশসীমায় প্রবেশ কিংবা সে দেশের বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি দিতে রিয়াধ রাজি হয়নি বলে নিরাপত্তা সূত্র উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে ইজরায়েলের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

শেষ পর্যন্ত অবশ্য আটকে পড়া যাত্রীদের ফেরাতে বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়। ফ্লাইদুবাইয়ের তরফে অন্য একটি অসামরিক বিমানে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এসেছে যখন সৌদি আরব ও ইজরায়েলের সম্ভাব্য সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ নিয়ে পশ্চিম এশিয়ার কূটনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সৌদি আরবকে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর আওতায় আনার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। এই কাঠামোর মাধ্যমেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, বাহরাইন-সহ কয়েকটি আরব দেশ ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছিল।

সৌদি আরব অবশ্য বারবার জানিয়েছে, প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিশ্বাসযোগ্য ও সুস্পষ্ট পথ ছাড়া ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রশ্নে তারা এগোবে না। গাজা সংঘাতের পর সেই অবস্থান আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এর মধ্যেই সম্প্রতি ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের একাংশে দাবি করা হয়েছিল, একটি আঞ্চলিক সফরের সময় নেতানিয়াহু পশ্চিম এশিয়ার কয়েক জন আধিকারিকের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন এবং সেখানে এক সৌদি আধিকারিকও উপস্থিত ছিলেন। সৌদি আরবের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক অবশ্য সেই দাবি অস্বীকার করেছেন।

ফলে ফ্লাইদুবাইয়ের জরুরি অবতরণ এবং যাত্রীদের ফেরাতে ইজরায়েলি সামরিক বিমান পাঠানোর প্রস্তাবে সৌদির আপত্তির দাবি দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান সীমাবদ্ধতাকেই নতুন করে সামনে এনেছে। তবে বিমানটির ককপিটে ঠিক কী ঘটেছিল এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কারণ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির আনুষ্ঠানিক তথ্যই পরবর্তী সময়ে ঘটনার পূর্ণ ছবি স্পষ্ট করবে।

Read More News

ইন্ডি জোটের বৈঠকে অখিলেশের অনুপস্থিতির কারণ জানালেন বেণুগোপাল, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি কংগ্রেসের

সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডি জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সমাজবাদী...

Read More