সকাল সকাল ডেস্ক
বর্ষা এলেই ডায়ারিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিস এবং পেটের সংক্রমণের মতো জলবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এর অন্যতম কারণ দূষিত পানীয় জল। বৃষ্টির মরশুমে যে কোনও সময় পানীয় জলের উৎস দূষিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জল দেখতে স্বচ্ছ এবং গন্ধহীন হলেই তা নিরাপদ—এমন ধারণা ঠিক নয়। কারণ জলে থাকা বহু ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও অন্যান্য জীবাণু খালি চোখে দেখা যায় না।
বর্ষার সময়ে বৃষ্টির জল, রাস্তার জমা জল, নর্দমার নোংরা জল কিংবা কৃষিজমি থেকে আসা রাসায়নিক মিশ্রিত জল পুকুর, কুয়ো বা অন্য পানীয় জলের উৎসে মিশে যেতে পারে। ফলে জল দূষিত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। আবার অনেক ক্ষেত্রে পানীয় জলের পাইপলাইন ফেটে গেলে তার মধ্যে নোংরা জল প্রবেশ করতে পারে। তাই এই সময়ে পানীয় জল ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
জলবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাতে জল ফুটিয়ে পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। জল যথাযথভাবে ফুটিয়ে নিলে অনেক ধরনের রোগজীবাণু নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব। তবে জল ফুটিয়ে সব ধরনের দূষণ দূর করা যায় না। জলে সিসা, আর্সেনিক বা অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ থাকলে তা ফুটিয়েও থেকে যেতে পারে। তাই এলাকার জলের মান অনুযায়ী উপযুক্ত ওয়াটার পিউরিফায়ার বা নিরাপদ পরিশোধন ব্যবস্থা ব্যবহার করা যেতে পারে।
শুধু পানীয় জল বিশুদ্ধ হলেই হবে না, জল রাখার পাত্রও পরিষ্কার থাকা জরুরি। বোতল, জগ, ফিল্টার এবং জলের ট্যাঙ্ক নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ট্যাঙ্ক পরিষ্কার না করলে সেখানে ময়লা ও জীবাণু জমতে পারে। একই সঙ্গে বাড়ির পাইপলাইনে কোনও ফাটল বা লিক রয়েছে কি না, তাও নিয়মিত পরীক্ষা করা দরকার।
বর্ষায় রাস্তার ধারের কাটা ফল, শরবত, বরফ দেওয়া পানীয় এবং অপরিচিত উৎসের জল এড়িয়ে চলা ভালো। কারণ সেগুলিতে ব্যবহৃত জল কতটা নিরাপদ, তা নিশ্চিত হওয়া কঠিন। বাইরের খাবারের ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা প্রয়োজন। বাড়িতে খাবার তৈরির আগে হাত ভালোভাবে ধোয়া এবং রান্নায় নিরাপদ জল ব্যবহার করাও জরুরি।
পানীয় জলের স্বাদ, গন্ধ বা রঙে হঠাৎ পরিবর্তন দেখা দিলে সেই জল ব্যবহার না করে উৎস পরীক্ষা করা উচিত। বর্ষার মরশুমে নিরাপদ জল, পরিষ্কার পাত্র এবং স্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে নজর রাখলেই জলবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
No Comment! Be the first one.