সকাল সকাল ডেস্ক
কুইটো (ইকুয়েডর): ইকুয়েডরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জন রিমবার্গ বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, মেক্সিকোর কুখ্যাত ‘জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল’ (সিজেএনজি)-এর স্থানীয় শাখাকে নিষ্ক্রিয় করতে এবং ওই সংগঠনের ৩০ জনের বেশি সদস্যকে গ্রেফতারে সহায়তা করেছেন মার্কিন সেনারা। তাঁর দাবি, লাতিন আমেরিকায় সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিযানে ওয়াশিংটনের সহযোগী দেশ ইকুয়েডর সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে।
সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিমবার্গ ‘এক্স’-এ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ভোরে মার্কিন সেনা এবং ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিইএ)-এর সহযোগিতায় যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সিজেএনজির সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে ৩০ জনের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রিমবার্গ জানান, এই গোষ্ঠী কলম্বিয়া থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম ইকুয়েডরের বন্দরগুলির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে কোকেন পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল। একাধিক শহরে চালানো অভিযানে ইকুয়েডরের প্রায় ৩২০ জন পুলিশ কর্মকর্তা এবং মার্কিন সাদার্ন কমান্ডের ৫০ জন ইউনিফর্মধারী সদস্য অংশ নেন। অভিযানের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছেন রিমবার্গ। সেখানে কর্মকর্তাদের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো এবং সন্দেহভাজনদের আটক করতে দেখা গিয়েছে।
ইকুয়েডরে অপরাধী সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলির মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, নির্যাতন এবং মানুষকে জোরপূর্বক নিখোঁজ করার অভিযোগের নিন্দা করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। যদিও দেশটির দক্ষিণপন্থী প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া বুধবার রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই উদ্বেগ খারিজ করেন।
নোবোয়া বলেন, “সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই নিয়ে প্রচুর সমালোচনা হয়, কিন্তু সংগঠিত অপরাধের কারণে কত মানুষের মৃত্যু হচ্ছে বা কত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তা নিয়ে অনেক কম উদ্বেগ দেখা যায়।”
চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন কমান্ডোরা ইকুয়েডরের সেনাদের সঙ্গে একটি যৌথ অভিযানে অংশ নিয়েছিল। ওই অভিযানের লক্ষ্য ছিল দেশের উপকূলীয় এলাকায় একটি কথিত ‘নার্কো-টেররিস্ট’ সংগঠনের সন্দেহভাজন অপরাধী ঘাঁটি নিষ্ক্রিয় করা।
গত কয়েক বছরে ইকুয়েডরের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। একসময় দক্ষিণ আমেরিকার তুলনামূলক নিরাপদ দেশগুলির মধ্যে গণ্য হওয়া ইকুয়েডর এখন কোকেন পাচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুটে পরিণত হয়েছে। সেখানে মেক্সিকান ও কলম্বিয়ান কার্টেলের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠীর প্রভাব বেড়েছে।
২০২৫ সালের জুনে দেশটির অন্যতম বড় মাদক পাচারকারী অ্যাডোলফো ম্যাসিয়াসকে পুনরায় গ্রেফতার করা হলেও অপরাধী গোষ্ঠীগুলির সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। ম্যাসিয়াস ‘লস চোনেরোস’ গ্যাংয়ের নেতা। ২০২৪ সালে তিনি একটি সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবিশিষ্ট কারাগার থেকে পালিয়ে যান। পরে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ইকুয়েডর সরকার তাঁকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠায়। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও অস্ত্র সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
No Comment! Be the first one.