সকাল সকাল ডেস্ক
পেশোয়ার: ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাট। শুক্রবার পুরনো পুলিশ লাইনস এলাকার একটি মসজিদের কাছে বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনায় অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে পাঁচ জন পুলিশকর্মী এবং ১১ জন সাধারণ নাগরিক রয়েছেন। আহত হয়েছেন বহু মানুষ। তাঁদের কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবারের নমাজের সময়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় মসজিদের একটি অংশ ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রথম দিকে উদ্ধারকারী সংস্থা ‘রেসকিউ ১১২২’ সাত জনের মৃত্যু এবং ৩০ জনের বেশি আহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল। পরে উদ্ধারকাজ এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা বাড়ে। আহতদের কোহাটের জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।
খাইবার পাখতুনখোয়ার পুলিশ প্রধান জুলফিকার হামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি পুরনো পুলিশ লাইনস এলাকায় ঢুকে বিস্ফোরণ ঘটায়। এর পর স্পেশাল ব্রাঞ্চের ভবনের কাছেও এক আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরণ ঘটায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র হামলাকারীদের মধ্যে গুলির লড়াই শুরু হয়। পুলিশ লাইনস চত্বর ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী।
বিস্ফোরণের পর কোহাট-হাঙ্গু সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়। ধ্বংসস্তূপের নীচে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে উদ্ধার অভিযানও চালানো হয়।
হামলার নিন্দা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। আহতদের দ্রুত সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি উদ্ধার ও ত্রাণকাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বিস্ফোরণের প্রকৃতি ও কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্টও চেয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখোয়া দীর্ঘদিন ধরেই সশস্ত্র হামলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যায় জর্জরিত। আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এই প্রদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। পাকিস্তানি তালিবান বা তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-সহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে কোহাটের শুক্রবারের হামলার দায় তাৎক্ষণিক ভাবে কোনও গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।
পুলিশ লাইনসের মতো কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। হামলাকারীদের পরিচয় এবং বিস্ফোরণে ব্যবহৃত বিস্ফোরকের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।
No Comment! Be the first one.