জল কমতে শুরু করলেও দুর্ভোগ কাটেনি, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫, ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ জোরকদমে চলছে।
সকাল সকাল ডেস্ক
অসমে বন্যার জল ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। রাজ্যের সাতটি জেলায় এখনও তিন লক্ষ ৩২ হাজার ৬৩৯ জন মানুষ জলবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। একই সঙ্গে শিবসাগর জেলায় আরও সাতটি মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে। জল নামতে শুরু করলেও বহু পরিবার এখনও ঘরে ফিরতে পারেনি।
বর্তমান পরিস্থিতি
রাজ্য বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী শিবসাগর, গোলাঘাট, চড়াইদেও, যোরহাট, নগাঁও, শোণিতপুর এবং কামরূপ (মহানগর) জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও বন্যাকবলিত। মোট ২১টি রাজস্ব চক্রের ৬২২টি গ্রাম এখনও জলের নিচে রয়েছে। প্রায় ৪৫ হাজার ৩৪২ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জল কমলেও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বহু রাস্তা, বিদ্যালয় এবং সরকারি ভবন এখনও কাদা ও পলিতে ভরে রয়েছে। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা শুরু করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
উজান অসমের চারটি জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাণহানির সংখ্যাও এই এলাকাগুলিতেই বেশি। শিবসাগরের নাজিরা এলাকায় এখনও সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের খোঁজে উদ্ধারকারী দল নিরন্তর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা
মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান না মিললে সরকারি নিয়ম মেনে তাঁদের মৃত ঘোষণা করে পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হবে।
নতুন সমস্যার মুখে দুর্গত মানুষ
বন্যার জল নামার সঙ্গে সঙ্গে নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে। বহু বাড়ি, বিদ্যালয় ও অন্যান্য ভবনের ভিতরে হাঁটুসমান পলি জমে রয়েছে। অনেক বাড়ি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে বহু পরিবার এখনও ত্রাণশিবিরেই অবস্থান করছে।
পানীয় জল, স্বাস্থ্যবিধি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসন বিভিন্ন এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করেছে।
ত্রাণ ও পুনর্বাসন
বর্তমানে ৮১টি ত্রাণশিবির এবং ৩৪টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালু রয়েছে। মোট ১১৫টি কেন্দ্রের মাধ্যমে দুর্গত মানুষের কাছে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

ত্রাণশিবিরে বর্তমানে ৩২ হাজার ৪৭৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া আরও ১৬ হাজার ৩১৪ জন মানুষ ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারের পাশে সরকার রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব নেওয়ার পর পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের কাজ আরও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। মৃতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
উদ্ধার ও ত্রাণকাজে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সেনাবাহিনী, আধাসামরিক বাহিনী, ভারতীয় বায়ুসেনা, পুলিশ, অগ্নিনির্বাপক ও জরুরি পরিষেবা, জেলা প্রশাসন, সিভিল ডিফেন্স এবং প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকেরা একযোগে কাজ করছেন।
১২৫টি চিকিৎসক দল দুর্গত এলাকায় চিকিৎসা পরিষেবা দিচ্ছে। উদ্ধারকাজে ২১টি নৌকা নিয়োজিত রয়েছে। প্রয়োজনে আরও বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
ধনশিরি নদী এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তাই নদী সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পাশাপাশি নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েকদিন আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হতে পারে। তবে পুনর্বাসন ও ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে।
No Comment! Be the first one.