অসমে অপরিবর্তিত বন্যা পরিস্থিতি, মৃত বেড়ে ৩১

সকাল সকাল ডেস্ক।

গুয়াহাটি : দু-একটি এলাকায় সামান্য জল কমলেও সার্বিকভাবে অসমে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বন্যাজনিত বিভিন্ন ঘটনায় আরও ২১ জনের মৃত্যু হওয়ায় রাজ্যে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১। অসম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এএসডিএমএ) সর্বশেষ বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সর্বাধিক ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে শিবসাগর জেলায়। এছাড়া চড়াইদেওয়ে পাঁচ, গোলাঘাটে দুই এবং যোরহাট জেলায় একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে এএসডিএমএ-এর বুলেটিনে।

এ খবর লেখা পর্যন্ত বন্যার প্রভাবে ১৬টি জেলা যথাক্রমে শিবসাগর, যোরহাট, চড়াইদেও, গোলাঘাট, ডিব্রুগড়, ধেমাজি, লখিমপুর, শোণিতপুর, বিশ্বনাথ, ওদালগুড়ি, হোজাই, নগাঁও, কামরূপ (গ্রামীণ), কামরূপ (মেট্রো), তিনসুকিয়া এবং কার্বি আংলং-এর ৫ লক্ষ ৬৪ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

এএসডিএমএ-এর তথ্য বলেছে, ৪৪টি রাজস্ব চক্রের অন্তর্গত ৮৭২টি গ্রাম এখনও বন্যার জলে প্লাবিত। প্রায় ২৪,২১০ হেক্টর কৃষিজমি জলের নীচে চলে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষককুল, এতে তাঁদের জীবিকা নির্বাহে সংকট দেখা দিয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিবসাগর জেলা। শিবসাগরে ৩ লক্ষ ৫৯ হাজারের বেশি মানুষ বন্যায় আক্রান্ত। এর পর রয়েছে যোরহাট। যোরহাটে ৮৭,৬৬২ জন, চড়াইদেওয়ে ৭২,৬৪৬, ডিব্ৰুগড়ে ১৮,৬১৫ জন এবং ১৬,৭৯৯ জন গোলাঘাটে।

বন্যাদুর্গতদের আশ্রয় ও ত্রাণের জন্য জেলা প্রশাসন ২৭৩টি ত্রাণ শিবির ও ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালু করেছে। ওই সব ত্রাণ শিবিরে ১ লক্ষ ১৪ হাজারেরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

ত্ৰাণ ও উদ্ধারে যৌথভাবে নিরলস কাজ করছে ভারতীয় সেনাবাহিনী, ভারতীয় বায়ুসেনা, ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এনডিআরএফ), স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এসডিআরএফ), অগ্নিনির্বাপক ও জরুরি পরিষেবার দল, আসাম পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন যৌথভাবে নিরলস কাজ করছে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে যোরহাট জেলার অন্তর্গত টিয়ক রাজস্ব সার্কলের অধীন সেলেংঘাট এলাকা, সেলেং চা বাগানের কাছে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তা পাওয়ার পর একটি বিশেষ উদ্ধার অভিযান চালায় এনডিআরএফ। খোদ ডেপুটি কমান্ডেন্ট এনকে তিওয়ারির তত্ত্বাবধানে ইনস্পেক্টর কেবি নাথের নেতৃত্বাধীন দলটি পাঁচজনকে নিরাপদে উদ্ধার করেছে।

উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ছিলেন প্লাবিত বাড়ির ছাদে আটকে পড়া এক কিশোরী, প্রবল স্রোতে আটকে পড়া এক ব্যক্তি এবং বন্যার জলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া তিনজন মহিলা। এছাড়া দীর্ঘক্ষণ বন্যার জলে থাকার ফলে মারাত্মক হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত এক বৃদ্ধাকেও উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর নির্ধারিত ত্রাণ শিবিরে স্থানান্তর করা হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উজান অসমের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও বন্যার জলে ডুবে থাকায় উদ্ধারকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। পরিস্থিতির ওপর রাজ্য প্রশাসন নিবিড় নজর রাখার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলিতে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

Read More News

শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখলেন অমিত শাহ, সীমান্ত সুরক্ষায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

সকাল সকাল ডেস্ক শিলিগুড়ি : কেন্দ্রে নতুন সরকার গঠনের পর প্রথমবার উত্তরবঙ্গ সফরে এসে ভারত-বাংলাদেশ...

‘বিকশিত ভারত’ গড়ার দৃঢ় ভিত্তি তৈরি হয় সুস্থ মা এবং পুষ্টিসম্পন্ন শিশুর মাধ্যমে : অন্নপূর্ণা

কেন্দ্রীয় মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী শনিবার ঝাড়খণ্ডের কোডারমায় আয়োজিত...

দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর দ্রুত প্রসার, চণ্ডীগড়ে ৪,৭০০ কোটির প্রকল্প উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

সকাল সকাল ডেস্ক চণ্ডীগড় : চণ্ডীগড়ে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সড়ক পরিকাঠামো-সহ ৪,৭০০ কোটিরও বেশি...

Read More