সকাল সকাল ডেস্ক
Panama Canal ঘিরে ফের সরব ডোনাল্ড ট্রাম্প। চিনের বাড়তে থাকা প্রভাব, মার্কিন নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন বিতর্ক।
বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে Panama Canal। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ নিয়ে ফের সরব হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, চিন ধীরে ধীরে Panama Canal-এর উপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে এবং তা কোনওভাবেই মেনে নেবে না যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ১৯৯৯ সালে পানামার হাতে খালের নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক ভুল’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জাতীয় নিরাপত্তা এবং ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে Panama Canal-কে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
Panama Canal নিয়ে কী বললেন ট্রাম্প?
সম্প্রতি থিওডোর রুজভেল্ট প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, পানামা খালের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতছাড়া হওয়ার পর থেকেই জাহাজ চলাচলের খরচ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। সম্প্রতি থিওডোর রুজভেল্ট প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, পানামা খালের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতছাড়া হওয়ার পর থেকেই জাহাজ চলাচলের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাঁর দাবি, এই জলপথে টোল বা মাশুল একাধিকবার বাড়ানো হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর।
ট্রাম্পের কথায়, “পানামা খাল হস্তান্তরের পর জাহাজ চলাচলের ফি চার গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। এরপরও একাধিকবার মাশুল বাড়ানো হয়েছে। অথচ এই রুটের কার্যকর বিকল্প না থাকায় বিশ্বের বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে বাধ্য হয়েই এই পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই খাল থেকে বিপুল আয় করেছে পানামা। আমার মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় কৌশলগত ভুল ছিল।”
তাঁর দাবি, প্রথমে চার গুণ পর্যন্ত মাশুল বাড়ানো হয় এবং পরে আরও কয়েক দফায় ফি বৃদ্ধি করা হয়। তা সত্ত্বেও বিকল্প পথ না থাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে বাধ্য হয়েই এই জলপথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।
ট্রাম্পের বক্তব্য, “পানামা এই খাল থেকে বছরের পর বছর বিপুল অর্থ উপার্জন করেছে। আমার মতে, খালটি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত ভুল।”

Background: কেন এত গুরুত্বপূর্ণ Panama Canal?
Panama Canal আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযুক্ত করা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৃত্রিম জলপথ। এই খাল ব্যবহারের ফলে জাহাজগুলিকে দক্ষিণ আমেরিকার কেপ হর্ন ঘুরে দীর্ঘ সমুদ্রপথ অতিক্রম করতে হয় না।
ফলে সময়, জ্বালানি এবং পরিবহণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই জলপথের গুরুত্ব অপরিসীম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কনটেনার পরিবহণের প্রায় ৪০ শতাংশ এই খাল দিয়েই সম্পন্ন হয়। প্রতি বছর প্রায় ২৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য এই রুট ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছায়।
কীভাবে পানামার হাতে যায় নিয়ন্ত্রণ?
দীর্ঘ সময় ধরে Panama Canal যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
১৯৭৭ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার এবং পানামার নেতা ওমর তোরিহোসের মধ্যে তোরিহোস-কার্টার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তির ভিত্তিতে ধাপে ধাপে খালের নিয়ন্ত্রণ পানামার হাতে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অবশেষে ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পানামা সরকারের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে খালের সম্পূর্ণ দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই পানামা খাল কর্তৃপক্ষ এই জলপথ পরিচালনা করছে।
Official Statement: চিনকে নিয়ে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা
ট্রাম্পের অভিযোগ, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে চিন বাণিজ্যিক বিনিয়োগের আড়ালে Panama Canal-সহ লাতিন আমেরিকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর উপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “চিন এখন পানামা খালের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু তা কোনওভাবেই হতে দেওয়া হবে না।”
অন্যদিকে, চিন এই অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে। বেজিংয়ের দাবি, তাদের বিদেশি বিনিয়োগ শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নের স্বার্থেই করা হচ্ছে।
Impact: কেন উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র?
বিশ্লেষকদের মতে, Panama Canal-এর উপর কোনও বিদেশি শক্তির প্রভাব বাড়লে তা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
এই জলপথ শুধু বাণিজ্যের জন্য নয়, সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলের পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।
Public Information: জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়েও ট্রাম্পের মন্তব্য
একই অনুষ্ঠানে ট্রাম্প জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব (Birthright Citizenship) ইস্যুতেও নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
তাঁর দাবি, মার্কিন সংবিধানের সংশ্লিষ্ট বিধান মূলত গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে দাসপ্রথার শিকার মানুষের সন্তানদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত হয়েছিল, বিদেশি নাগরিকদের সন্তানদের জন্য নয়।
এছাড়া সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা সংক্রান্ত যে রায় দিয়েছে, তাকেও স্বাগত জানান ট্রাম্প। তাঁর মতে, এই রায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আরও শক্তিশালী করবে।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
সামনে কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, Panama Canal আগামী দিনেও যুক্তরাষ্ট্র-চিন ভূ-কৌশলগত প্রতিযোগিতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যের প্রশ্নে এই জলপথের গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। ফলে পানামা খালকে ঘিরে ভবিষ্যতে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
No Comment! Be the first one.