সকাল সকাল ডেস্ক
US Iran Conflict ঘিরে যুদ্ধবিরতির মাঝেই নতুন সংঘাত, মার্কিন বিমান হামলার পর কুয়েত ও বাহরাইনে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলার দাবি তেহরানের
পশ্চিম এশিয়ায় ফের অস্থিরতা বাড়ছে। US Iran Conflict নতুন করে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধবিরতির আবহ তৈরি হলেও হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ফলে US Iran Conflict ঘিরে নতুন করে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে মার্কিন সামরিক অভিযান
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, পানামার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার অভিযোগের পর শনিবার রাতে বিশেষ সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালী এবং সংলগ্ন এলাকায় ইরানের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে নির্ভুল বিমান হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন হামলার জবাবে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছে
সেন্টকমের মতে, অভিযানে নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট, ড্রোন সংরক্ষণাগার, উপকূলীয় রাডার কেন্দ্র এবং সমুদ্রে মাইন পাতা-সংক্রান্ত সামরিক স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে একাধিক বিস্ফোরণের দৃশ্যও তুলে ধরা হয়েছে।
ট্রাম্পের কড়া বার্তা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দেন। তাঁর দাবি, যুদ্ধবিরতির শর্ত পুনরায় লঙ্ঘিত হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও ব্যাপক সামরিক পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার, ড্রোন ঘাঁটি এবং উপকূলীয় সামরিক অবকাঠামোকেই এই অভিযানে লক্ষ্য করা হয়েছে। তাঁর মন্তব্যের পর US Iran Conflict আরও সংবেদনশীল পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
কুয়েত ও বাহরাইনে পাল্টা হামলার দাবি
মার্কিন অভিযানের পর ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করে, তাদের নৌ ও বিমান ইউনিট যৌথভাবে কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের পোর্ট সালমানে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের একাধিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
আইআরজিসির দাবি, এই হামলা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের জবাব। পাশাপাশি তারা সতর্ক করে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যে কোনও পদক্ষেপের কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

পটভূমি
গত কয়েক মাস ধরে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই প্রচেষ্টায় ধাক্কা দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। ফলে এই অঞ্চলে সংঘাত বৃদ্ধি পেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব পড়তে পারে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ইরানকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত আবারও লঙ্ঘিত হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর ও ব্যাপক সামরিক পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার, ড্রোন ঘাঁটি এবং উপকূলীয় সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজন হলে চলমান সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করা হতে পারে।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
সরকারি অবস্থান
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত রক্ষার লক্ষ্যেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, ওয়াশিংটনই প্রথম সামরিক হামলা চালিয়ে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করেছে। তেহরানের দাবি, তাদের পদক্ষেপ ছিল আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ এবং দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, US Iran Conflict আরও তীব্র হলে আন্তর্জাতিক তেলের দাম, জাহাজ চলাচল, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারে। ইতোমধ্যেই একাধিক দেশ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে আত্মরক্ষামূলক বলে দাবি করেছে, তবে তাদের উপস্থাপিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল সতর্ক নজর রাখছে।
সাধারণ মানুষের জন্য তথ্য
মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশিকা অনুসরণ এবং সরকারি ভ্রমণ সতর্কতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত সংলাপ শুরু না হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।
No Comment! Be the first one.