দু’দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও মৃত্যু নয়, মার্কিন বন্দিকে নিয়ে নজিরবিহীন পরিস্থিতি

সকাল সকাল ডেস্ক

ওয়াশিংটন: মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে দু’দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরেও মৃত্যু হয়নি এক মহিলা বন্দির—আমেরিকার টেনেসি অঙ্গরাজ্যে এমনই এক বিরল ঘটনার দাবি ঘিরে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া বন্ধ করে ওই বন্দিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

ওই বন্দির নাম ক্রিস্টা পাইক। প্রায় তিন দশক ধরে মৃত্যুদণ্ডের সাজা নিয়ে কারাগারে রয়েছেন তিনি। ১৯৯৬ সালের একটি হত্যা মামলায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। টেনেসির দীর্ঘ ইতিহাসে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মহিলা বন্দিদের মধ্যে তাঁর মামলা বিশেষভাবে আলোচিত।

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে পাইকের আইনজীবীরা মৃত্যুদণ্ড রদের চেষ্টা করেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে ঘটনাটি ঘটানো হয়নি। পাইকও আদালতে দাবি করেছিলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে হত্যা করার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। তবে আদালতে সেই যুক্তি গৃহীত হয়নি এবং মৃত্যুদণ্ডের সাজা বহাল থাকে।

আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ন্যাশভিলের রিভারব্যান্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে স্থানীয় সময় বুধবার রাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাইকের শরীরে পেন্টোবারবিটাল ব্যবহার করে প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়। প্রথম দফার পরেও তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়ায় নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসারে দ্বিতীয় দফায় ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু তারপরেও তাঁর মৃত্যু হয়নি বলে দাবি।

পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের জন্য নির্ধারিত কক্ষের পর্দা বন্ধ করে সাংবাদিকদেরও সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়। পরবর্তী সময়ে পাইককে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রোটোকল, ওষুধের কার্যকারিতা এবং বন্দির শারীরিক অবস্থার মতো বিষয়গুলি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পরেও কোনও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির বেঁচে থাকার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। ফলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমেরিকায় মৃত্যুদণ্ড এবং প্রাণঘাতী ইনজেকশন ব্যবহারের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, পাইকের ক্ষেত্রে ফের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হবে কি না। বিষয়টি নিয়ে আইনি জটিলতাও তৈরি হতে পারে। আইনজ্ঞদের মধ্যে এ নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে। ফলে তাঁর পরবর্তী আইনি অবস্থান কী হবে, তা প্রশাসনিক তদন্ত এবং আদালতের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করতে পারে।

Read More News

ইন্ডি জোটের বৈঠকে অখিলেশের অনুপস্থিতির কারণ জানালেন বেণুগোপাল, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি কংগ্রেসের

সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডি জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সমাজবাদী...

Read More