সকাল সকাল ডেস্ক
ওয়াশিংটন: ‘‘এই লোকটা একজন মনস্টার!’’ গুগলের সিইও সুন্দর পিচাইকে পাশে দাঁড় করিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ‘মনস্টার’ শব্দটি নেতিবাচক অর্থে নয়, প্রযুক্তি জগতে পিচাইয়ের বিপুল প্রভাব ও সাফল্যের প্রশংসা করতেই রসিকতার ছলে ব্যবহার করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবও হাসিমুখেই দিয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত গুগল কর্তা।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষেত্রের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। সেখানে সুন্দর পিচাইয়ের পাশাপাশি মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ, অ্যানথ্রপিকের সিইও দারিও আমোদেই, ওপেনএআই-এর প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান, এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং-সহ প্রযুক্তি জগতের একাধিক শীর্ষ কর্তা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের পর প্রযুক্তি সংস্থার কর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেই সময় সুন্দর পিচাইকে কিছু বলার জন্য আহ্বান জানান ট্রাম্প। পিচাই কথা শুরু করতেই তাঁকে থামিয়ে রসিকতার সুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘এই লোকটা একজন মনস্টার, অথচ কেউ ওঁকে চেনে না। কী দারুণ জীবন! মনস্টার হয়েও এসবের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় না।’’
এর পর উপস্থিতদের উদ্দেশে পিচাইয়ের নামও বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তাঁর মন্তব্যে স্পষ্ট ছিল, ‘মনস্টার’ শব্দটি পিচাইয়ের বিপুল সাফল্য ও প্রভাব বোঝাতেই ব্যবহার করছেন তিনি। প্রযুক্তি শিল্পে পিচাইয়ের অবস্থানের প্রশংসাও করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের মন্তব্য শুনে অবশ্য অস্বস্তিতে পড়েননি গুগল কর্তা। বরং রসিকতার সুরেই পাল্টা জবাব দেন তিনি। পিচাই বলেন, আশা করছেন ‘আমি একজন মনস্টার’ বলার চেয়ে আরও ভাল কোনও পরিচিতি তাঁর জন্য থাকবে। দু’জনের কথোপকথনের সময় উপস্থিত অন্য প্রযুক্তি কর্তাদেরও হাসতে দেখা যায়।
তবে হোয়াইট হাউসের বৈঠকের মূল বিষয় ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ এবং তার নিরাপত্তা। উন্নত এআই ব্যবস্থার উপর নজরদারি বাড়াতে একটি স্বেচ্ছামূলক কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেন ট্রাম্প এবং প্রযুক্তি সংস্থাগুলির কর্তারা। এই কাঠামোয় সংস্থাগুলির নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি স্বাধীন বহিরাগত পর্যালোচনার ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।
পিচাই জানিয়েছেন, ব্যবসার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে যে ধরনের কর্পোরেট পরিচালন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়, এআই প্রযুক্তির উন্নয়নেও সেই ধরনের প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি প্রয়োগের চেষ্টা করা হবে।
মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গও এআই ব্যবস্থার উপর একাধিক স্তরে নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। প্রযুক্তিতে কোনও সমস্যা বা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না, তা চিহ্নিত করতে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, বহিরাগত অডিট এবং পরিচালন পর্ষদের স্তরে পর্যালোচনার মতো ব্যবস্থা রাখার কথা আলোচনায় উঠে এসেছে।
তবে এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন অ্যানথ্রপিকের সিইও দারিও আমোদেই। তাঁর বক্তব্য, এই প্রযুক্তির বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে এবং সেই ঝুঁকি মোকাবিলার কার্যকর পদ্ধতি নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে।
ট্রাম্প প্রশাসন গত কয়েক মাস ধরে আমেরিকায় এআই পরিকাঠামো সম্প্রসারণের উপর জোর দিচ্ছে। বিপুল বিনিয়োগে ডেটা সেন্টার ও সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামো তৈরির মধ্যেই এবার এআই সংস্থাগুলির স্বেচ্ছা-নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির বিষয়টিও সামনে এল। তবে গুরুগম্ভীর সেই আলোচনার মাঝেই সুন্দর পিচাইকে ট্রাম্পের ‘মনস্টার’ সম্বোধন আলাদা করে নজর কেড়েছে।
No Comment! Be the first one.