সকাল সকাল ডেস্ক
Hormuz Strait-এ জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উদ্যোগে আস্থা প্রকাশ করল মস্কো, ১৪ দফা চুক্তি ঘিরে নতুন কূটনৈতিক বার্তা।
রাশিয়া Hormuz Strait-এ জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। মস্কোর মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সাম্প্রতিক সমঝোতা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জি বোরিসেঙ্কো বলেছেন, Hormuz Strait-এর নিরাপত্তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Hormuz Strait নিয়ে রাশিয়ার প্রত্যাশা
মঙ্গলবার রুশ সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বোরিসেঙ্কো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফা চুক্তি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হবে বলেই রাশিয়া আশা করছে। তাঁর মতে, চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল Hormuz Strait-এ বাণিজ্যিক ও তেলবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা।
তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলে উত্তেজনা কমাতে এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। কোনও ধরনের সংঘাত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
কী রয়েছে ১৪ দফা চুক্তিতে
রাশিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফা সমঝোতায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে Hormuz Strait-এ জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর।
চুক্তির লক্ষ্য হল সামরিক উত্তেজনা কমানো, পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য সংঘাত এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বাড়তে পারে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলছে America-Iran
এর আগে মার্কিন উপ-রাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স ঘোষণা করেন, উত্তেজনা প্রশমিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থা বা কমিউনিকেশন চ্যানেল গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে।
পরবর্তীতে ইরানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভিও একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করে। সূত্রটির দাবি, Hormuz Strait-কে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে কোনও ভুল বোঝাবুঝি বা সামরিক সংঘাত এড়াতেই এই যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছে রাশিয়া। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জি বোরিসেঙ্কো জানান, দুই দেশের ১৪ দফা সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ অংশই হলো প্রণালীতে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা। এদিকে মার্কিন উপ-রাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স জানান, উত্তেজনা কমাতে ও বিরোধ মেটাতে ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করতে সম্মত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা থাকলে সংকটের সময় দ্রুত বার্তা আদান-প্রদান সম্ভব হবে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।

পটভূমি
১৮ জুন রাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। এই সমঝোতার মূল উদ্দেশ্য ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটানো এবং দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরায় সক্রিয় করা।
গত কয়েক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থির থাকায় Hormuz Strait আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে যে কোনও ধরনের অস্থিরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, বাণিজ্য এবং শিপিং শিল্পে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রভাব কী হতে পারে
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চুক্তির শর্তগুলি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে, তাহলে Hormuz Strait-এ জাহাজ চলাচল আরও নিরাপদ হবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য স্বাভাবিক থাকবে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতা কমতে পারে।
অন্যদিকে, চুক্তি বাস্তবায়নে কোনও বাধা সৃষ্টি হলে বা নতুন করে উত্তেজনা বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে তেল সরবরাহ, বীমা ব্যয়, আন্তর্জাতিক শিপিং এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
সরকারি বক্তব্য
রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জি বোরিসেঙ্কো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা সব দিক থেকে বাস্তবায়িত হবে বলেই তাঁদের প্রত্যাশা। তাঁর মতে, সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের গঠনমূলক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে মার্কিন প্রশাসন ও ইরানের সরকারি সূত্রও যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানিয়েছে।
সাধারণ মানুষের জন্য কী গুরুত্বপূর্ণ
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ Hormuz Strait দিয়ে পরিবাহিত হয়। তাই এই অঞ্চলে শান্তি বজায় থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা কমবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থিতিশীল সামুদ্রিক পরিবেশ বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
No Comment! Be the first one.