সকাল সকাল ডেস্ক
ওয়াশিংটন: দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের উপর হামলার ঘটনায় ইরানের সম্ভাব্য যোগ নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তাঁর কাছে আসা কিছু তথ্য ইরানের সম্ভাব্য যোগের দিকে ইঙ্গিত করছে। তবে তদন্ত এখনও চলছে এবং এই ঘটনায় তেহরানের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকার কোনও প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প জানান, বিষয়টি তাঁর প্রশাসন খতিয়ে দেখছে। ইরানের যোগ প্রমাণিত হলে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে অভিযুক্ত সহ-পাইলটের সঙ্গে ইরানের কোনও সংস্থা বা ব্যক্তির সরাসরি যোগাযোগ ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও এই পর্যায়ে ইরানের ভূমিকা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে নারাজ। তাঁর বক্তব্য, অভিযুক্ত সহ-পাইলটের সঙ্গে ইরান বা অন্য কোনও সংগঠনের যোগাযোগ ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।
৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভ যাওয়ার সময় ককপিটে গুরুতর নিরাপত্তা সঙ্কট তৈরি হয়। ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের উপর সহ-পাইলট হামলা চালান বলে অভিযোগ। ইজরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, সহ-পাইলট বিমানটিকে দুর্ঘটনার মুখে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে হামলার উদ্দেশ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত হয়নি।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় বিমানটি অত্যন্ত দ্রুত প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতা হারায়। গুরুতর আহত অবস্থাতেও ক্যাপ্টেন মচ্ছার ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা ককপিটে ঢুকে অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে বিমানে থাকা অন্য পাইলটদের সহায়তায় সেটিকে সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করানো হয়।
ঘটনার পর ক্যাপ্টেন মচ্ছারের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন একাধিক দেশের নেতা। তাঁর দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার কারণেই যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সুযোগ পেয়েছিলেন বলে ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কর্তৃপক্ষ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এটি সন্ত্রাসবাদী হামলার চেষ্টা ছিল কি না, অভিযুক্ত সহ-পাইলটের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং কোনও ব্যক্তি, সংগঠন বা রাষ্ট্রের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল কি না—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ফলে এই মুহূর্তে ইরানের যোগ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করলেও বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন। তদন্তে নির্দিষ্ট প্রমাণ সামনে না আসা পর্যন্ত ফ্লাইদুবাইয়ের ককপিটে হামলার সঙ্গে ইরানের যোগ নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
No Comment! Be the first one.