মার্কিন মাটিতে অপরাজিত ইরান, বিশ্বকাপে রূপকথার সূচনা; ট্রাম্পকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিমের বন্যা

সকাল সকাল ডেস্ক

প্রতিকূলতা, অনিশ্চয়তা এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহ—সব বাধা অতিক্রম করেও ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের দৃঢ় উপস্থিতির জানান দিচ্ছে ইরান। গ্রুপ ‘জি’-তে প্রথম দুই ম্যাচে অপরাজিত থেকে ফুটবল বিশ্বে আলোচনারA কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ‘টিম মেল্লি’।

বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হয়েছিল নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২-২ গোলের ড্র দিয়ে। এরপর রবিবার শক্তিশালী বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত রক্ষণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়ে গোলশূন্য ড্র করে ইরান। তারকাখচিত বেলজিয়াম দল ১০ জনে নেমে এলেও ম্যাচের পুরো সময় জুড়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ পারফরম্যান্সে প্রতিপক্ষকে গোলের সুযোগ দিতে চায়নি ইরান।

তবে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দলটির বিশ্বকাপ যাত্রার পেছনের কঠিন বাস্তবতা। ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে নিজেদের বেস ক্যাম্প স্থাপনের অনুমতি পায়নি ইরান। ফলে বাধ্য হয়ে মেক্সিকোতে ঘাঁটি গেড়ে সেখান থেকে প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ম্যাচ খেলতে আসতে হচ্ছে দলটিকে।

কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সীমান্ত অতিক্রমের জটিলতা এবং ক্লান্তিকর যাতায়াতের মধ্যেও ইরানের এই সাফল্য ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মজার ছলে মন্তব্য করছেন, রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ইরান এখনও ‘অপরাজিত’। এ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে অসংখ্য মিমও ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে।

বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ড্রয়ের পর ইরানের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোই দলের পারফরম্যান্সকে “বিরাট সাফল্য” বলে উল্লেখ করেন। ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিশ্বকাপের আগে দলের কঠিন পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন।

ঘালেনোই বলেন, “গত ছয় মাস আমরা কার্যত যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ছিলাম। দেশের ঘরোয়া ফুটবল লিগ নিয়মিতভাবে আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচও বাতিল হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে অংশ নিতে আসাটা আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল।”

তিনি আরও বলেন, “এই বাস্তবতায় প্রথম দুই ম্যাচে অপরাজিত থাকা আমাদের জন্য বিশাল অর্জন। ইরানের ফুটবল ইতিহাসে এই অধ্যায় বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমি মনে করি না, বিশ্বের অনেক দল এমন প্রতিকূলতার মধ্যেও একইভাবে নিজেদের ধরে রাখতে পারত।”

নিজের ফুটবলারদের প্রশংসা করে ইরান কোচ বলেন, “এই খেলোয়াড়রা হৃদয় দিয়ে খেলছে। তারা দেশের জন্য, মানুষের জন্য এবং নিজেদের আত্মসম্মানের জন্য লড়াই করছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মও তাদের এই সংগ্রামের কথা মনে রাখবে।”

দুই ম্যাচ শেষে ইরানের সংগ্রহ দুই পয়েন্ট। গ্রুপ পর্বে এখনও তাদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ লড়াই বাকি থাকলেও, এখন পর্যন্ত পারফরম্যান্সে স্পষ্ট—প্রতিকূল পরিস্থিতিকে শক্তিতে পরিণত করে বিশ্বকাপের অন্যতম অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠছে ইরান।

Read More News

ভোটার তালিকা থেকে যোগ্য ভোটারের নাম বাদ যাবে না, বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের

রাঁচি: ঝাড়খণ্ডের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক কে. রবি কুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিশেষ নিবিড়...

Read More