সকাল সকাল ডেস্ক
ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সদ্য স্বাক্ষরিত প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা কয়েক দিনের মধ্যেই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ থেকে দূরে রাখা সম্ভব হবে।
চলতি সপ্তাহে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি। তবে মার্কিন প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, এর মাধ্যমে গত এপ্রিলে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো হয়েছে, যাতে দুই দেশ স্থায়ী শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারে।
প্রাথমিক চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলির ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে। বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজসহ আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করতে সম্মত হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ।
ট্রাম্প বলেন, চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে ইরান কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না। তিনি জানান, আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে খুব শিগগিরই চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।
ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা করছে না।
চুক্তির আওতায় ইরানকে পুনরায় তেল ও জ্বালানি রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন। পাশাপাশি ব্যাংকিং, পরিবহণ এবং বিমা খাতে কিছু বিধিনিষেধও শিথিল করা হতে পারে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আংশিক প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
তবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও অমীমাংসিত রয়েছে। আগামী ৬০ দিনের আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।
এদিকে চুক্তির খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমিত হলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে। তবে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে।
অন্যদিকে, চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় দেশের রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন চুক্তিটিকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরলেও সমালোচকদের একাংশ এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একইভাবে ইরানের অভ্যন্তরেও অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক চাপের প্রেক্ষাপটে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চলছে।
No Comment! Be the first one.