সকাল সকাল ডেস্ক
France vs Sweden ম্যাচে এমবাপের জোড়া গোল, আইভরি কোস্টকে হারিয়ে হালান্ডের নরওয়েও নিশ্চিত করল ব্রাজিলের বিরুদ্ধে শেষ ষোলোর মহারণ।
France vs Sweden ম্যাচে আবারও বিশ্বমঞ্চে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করলেন কিলিয়ান এমবাপে। নিউ ইয়র্ক–নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ম্যাচে সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। France vs Sweden লড়াইয়ে এমবাপে দুটি গোল করেন, অন্য গোলটি আসে ব্র্যাডলি বারকোলার পা থেকে। তিনটি গোলেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মাইকেল ওলিসে, যিনি দুটি অ্যাসিস্ট করে ফরাসি আক্রমণের মূল কারিগর হয়ে ওঠেন।
অন্যদিকে, ডালাসে দিনের আরেকটি নকআউট ম্যাচে আর্লিং হালান্ডের শেষ মুহূর্তের গোলে আইভরি কোস্টকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করেছে নরওয়ে। এবার পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে ইউরোপের দলটি।
এমবাপের জাদুতে সহজ জয় ফ্রান্সের

শুরু থেকেই France vs Sweden ম্যাচে বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে ফ্রান্স। সুইডেন রক্ষণ সামলে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও দিদিয়ের দেশঁর দলের সংগঠিত ফুটবলের সামনে বারবার ব্যর্থ হয়।
প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি হলেও গোলের অপেক্ষা শেষ হয় যোগ করা সময়ে। উসমান ডেম্বেলের আক্রমণ থেকে বল পৌঁছায় মাইকেল ওলিসের কাছে। ওলিসের নিখুঁত পাস ধরে বক্সের মধ্যে ডান পায়ের শক্তিশালী শটে গোল করেন কিলিয়ান এমবাপে। গোলরক্ষকের কোনও সুযোগ ছিল না।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের গতি কমায়নি ফ্রান্স। ৬৮ মিনিটে ওলিসের আরেকটি নিখুঁত অ্যাসিস্ট থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা।
ম্যাচের শেষদিকে আবারও ওলিসের থ্রু পাস ধরে ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপে। তাঁর জোড়া গোলেই ৩-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ফ্রান্স।
বিশ্বকাপে নতুন রেকর্ডের পথে এমবাপে

এই জোড়া গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে এমবাপের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১৮। ফলে সর্বকালের অন্যতম সেরা বিশ্বকাপ গোলদাতাদের তালিকায় আরও ওপরে উঠে এলেন তিনি।
চলতি বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই ছয়টি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও শীর্ষস্থানে রয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক। টুর্নামেন্ট যত এগোচ্ছে, এমবাপে ততই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছেন, যা প্রতিপক্ষ দলগুলোর জন্য বড় সতর্কবার্তা।
কোচ দেশঁকে আবেগঘন উৎসর্গ

ম্যাচের প্রথম গোলের পর উদযাপনের বদলে সরাসরি কোচ দিদিয়ের দেশঁর কাছে ছুটে যান এমবাপে। সম্প্রতি নিজের মাকে হারিয়েছেন দেশঁ। সেই কঠিন সময়ে কোচের পাশে থাকার বার্তা দিতেই তাঁকে জড়িয়ে ধরেন ফরাসি অধিনায়ক।
ম্যাচ শেষে এমবাপে বলেন, দলের সদস্যরা শুধু সতীর্থ নন, তাঁরা একটি পরিবার। কঠিন সময়ে কোচ যেন কখনও নিজেকে একা মনে না করেন, সেই বার্তাই দিতে চেয়েছেন তিনি।
দেশঁও অধিনায়কের প্রশংসা করে জানান, এমবাপে শুধু মাঠেই নয়, দলের নেতৃত্বেও অসাধারণ পরিপক্বতার পরিচয় দিচ্ছেন।
হালান্ডের শেষ মুহূর্তের গোলে বাঁচল নরওয়ে
ডালাসে অনুষ্ঠিত নকআউট ম্যাচে আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে শুরুতেই এগিয়ে যায় নরওয়ে। ৩৯ মিনিটে আন্তোনিও নুসার গোলে প্রথমার্ধ শেষ করে তারা।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নেমে ম্যাচে সমতা ফেরান আমাদ দিয়ালো। তাঁর দুর্দান্ত গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় আফ্রিকার প্রতিনিধিদের হাতে।
তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে বড় তারকার মতোই সামনে আসেন আর্লিং হালান্ড। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার চার মিনিট আগে প্যাট্রিক বার্গের নিখুঁত থ্রু পাস ধরে গোল করে নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। ইনজুরি টাইমে আইভরি কোস্ট সর্বশক্তি দিয়ে আক্রমণ চালালেও সমতা ফেরাতে পারেনি।
প্রভাব: শেষ ষোলোয় জমজমাট লড়াই

ফ্রান্সের এই জয়ের ফলে আগামী ৪ জুলাই শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে এমবাপের দল। অন্যদিকে, নরওয়ের সামনে অপেক্ষা করছে টুর্নামেন্টের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা—পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
অফিসিয়াল বিবৃতি
ম্যাচ শেষে কিলিয়ান এমবাপে জানান, দলের ঐক্যই ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় শক্তি। অন্যদিকে কোচ দিদিয়ের দেশঁ বলেন, অধিনায়ক হিসেবে এমবাপের দায়িত্ববোধ এবং নেতৃত্ব দলের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি।
জনসাধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
ফ্রান্স ও নরওয়ে—দুই দলই বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেছে। আগামী নকআউট পর্বে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে এবং নরওয়ের প্রতিপক্ষ ব্রাজিল। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য দুই ম্যাচই হতে চলেছে টুর্নামেন্টের অন্যতম আকর্ষণ।
No Comment! Be the first one.