সকাল সকাল ডেস্ক
ইন্দোর : ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে রবিবার ইন্দোরের হোলকার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ম্যাচ। এই ম্যাচকে ঘিরে শহরজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উন্মাদনা। শনিবার বিকেলে চার্টার্ড বিমানে ইন্দোরে পৌঁছয় দুই দল। প্রিয় ক্রিকেটারদের এক ঝলক দেখতে বিমানবন্দর ও হোটেলের বাইরে ভিড় জমান অসংখ্য অনুরাগী।
হোলকার স্টেডিয়ামের বাইরের দোকানগুলিতে ইতিমধ্যেই ভারতীয় দলের জার্সি, টি-শার্ট ও টুপি বিক্রি শুরু হয়েছে। বিমানবন্দরে মধ্যপ্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের আধিকারিকেরা দুই দলকে স্বাগত জানান। ক্রিকেটারদের কাছ থেকে দেখার জন্য সেখানে ভিড় করেন ক্রীড়াপ্রেমীরা। বিমানবন্দর থেকে বেরোনোর সময় খেলোয়াড়েরাও হাত নেড়ে অনুরাগীদের অভিবাদন জানান। বৈভব সূর্যবংশী ও শুভমান গিলকে এক ঝলক দেখার জন্য বিশেষ উৎসাহ দেখা যায় সমর্থকদের মধ্যে।

কড়া নিরাপত্তায় হোটেলে ক্রিকেটারেরা
বিমানবন্দর থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে চার্টার্ড বাসে করে খেলোয়াড়দের নির্দিষ্ট হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। ভারতীয় দল ম্যারিয়ট হোটেলে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল র্যাডিসন হোটেলে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর ও অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার বিমানবন্দর থেকে সরাসরি গাড়িতে হোলকার স্টেডিয়ামে যান। অন্যদিকে তিলক ভার্মা, ঈশান কিষাণ, সঞ্জু স্যামসন ও মায়াঙ্ক যাদব-সহ দলের অন্যান্য ক্রিকেটার হোটেলে পৌঁছন। হোটেলের কর্মীরা তিলক দিয়ে দুই দলকে স্বাগত জানান। এরপর খেলোয়াড়েরা নিজেদের ঘরে চলে যান।
এবার ভারতীয় দলে ইন্দোরের কোনও ক্রিকেটার না থাকলেও ম্যাচে তৃতীয় আম্পায়ারের দায়িত্বে থাকবেন এই শহরেরই নিতিন মেনন। তাঁকে ঘিরেও স্থানীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে।
টিকিটের চাহিদা তুঙ্গে, অনুশীলনের বিশেষ ব্যবস্থা
ম্যাচের টিকিটের চাহিদা ঘিরেও ব্যস্ততা বেড়েছে। অনলাইনে স্টেডিয়ামের অধিকাংশ টিকিট বিক্রি হয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এখন অফলাইনে টিকিট সংগ্রহের জন্য স্টেডিয়ামের আশপাশে ভিড় করছেন অনেকে। স্টেডিয়ামের বাইরে ভারতীয় দলের জার্সি ও বিভিন্ন স্মারক বিক্রিও চলছে।
দুই দলের অনুশীলনের কথা মাথায় রেখে বিশেষ ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ। ব্যাটসম্যানদের নেট অনুশীলনের জন্য অময় খুরাসিয়া ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে দুটি পিচ তৈরি করা হয়েছে। হোলকার স্টেডিয়ামের পিচের মতো পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে ব্যাটসম্যানেরা ম্যাচের উপযোগী পরিস্থিতিতে অনুশীলন করতে পারেন। পাশাপাশি স্টেডিয়ামের ভিতরে বোলারদের জন্যও দুটি পৃথক পিচ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
দুই দলের জন্য কোনও বাধ্যতামূলক সরকারি অনুশীলন পর্ব নির্ধারিত নেই। ফলে খেলোয়াড়েরা নিজেদের সুবিধা ও দলের পরিচালন সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনুশীলন করবেন।
বড় রানের ম্যাচের প্রত্যাশা
হোলকার স্টেডিয়ামের পিচ সাধারণত ব্যাটসম্যানদের অনুকূল বলে পরিচিত। অতীতে এখানে একাধিক ম্যাচে বড় রান উঠেছে। তাই ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের আসন্ন টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একইসঙ্গে বোলারদের পরিকল্পনা এবং দ্বিতীয় ইনিংসে মাঠের পরিস্থিতিও ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
রাতের ম্যাচে শিশিরের প্রভাব বোলারদের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। ভেজা বল নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হওয়ায় স্পিনার ও পেসার—উভয়েরই সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা থাকে। শিশিরের প্রভাব কমানোর লক্ষ্যে মাঠের ঘাস ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার দিকেও নজর রাখা হয়েছে। তবে ম্যাচের সময় আবহাওয়া ও মাঠের প্রকৃত অবস্থার উপরই শিশিরের প্রভাব নির্ভর করবে।
ভারতীয় দলে রয়েছেন ১৫ জন
এই ম্যাচের জন্য ঘোষিত ভারতীয় দলে রয়েছেন সঞ্জু স্যামসন, অক্ষর প্যাটেল, কুলদীপ যাদব, শ্রেয়াস আইয়ার, ঈশান কিষাণ, শিবম দুবে, অভিষেক শর্মা, অর্শদীপ সিং, তিলক ভার্মা, রবি বিষ্ণোই, নীতিশ কুমার রেড্ডি, মায়াঙ্ক যাদব, নমন ধীর, প্রিন্স যাদব ও বৈভব সূর্যবংশী।
ঐতিহ্য ও রেকর্ডের সাক্ষী হোলকার স্টেডিয়াম
মারাঠা হোলকার রাজবংশের নামে নামাঙ্কিত হোলকার স্টেডিয়াম ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। মধ্যপ্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালনাধীন এই স্টেডিয়ামে প্রায় ৩০ হাজার দর্শক একসঙ্গে খেলা দেখতে পারেন। উন্নত আলোকব্যবস্থা ও জল নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই মাঠ।
আন্তর্জাতিক ম্যাচের পাশাপাশি এখানে বহু ঘরোয়া ক্রিকেট ম্যাচও অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৬ সালে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে প্রথম টেস্ট ম্যাচ আয়োজনের মধ্য দিয়ে হোলকার স্টেডিয়াম ভারতের ২২তম টেস্ট কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায়। ২০১৭ সালে এখানে ভারত-অস্ট্রেলিয়া একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং ভারত-শ্রীলঙ্কা টি-টোয়েন্টি ম্যাচও অনুষ্ঠিত হয়।
বড় রানের জন্য পরিচিত এই মাঠে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে বীরেন্দ্র শেহবাগ ২১৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন। সেই সময় একদিনের ক্রিকেটে এটি ছিল দ্বিতীয় দ্বিশতরান। পরবর্তী সময়ে রোহিত শর্মা ২৬৪ রান করে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড গড়েন।
সব মিলিয়ে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচকে কেন্দ্র করে ইন্দোরে ক্রিকেটের উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের অপেক্ষা রবিবারের মাঠের লড়াইয়ের দিকে।
No Comment! Be the first one.