নিম্ন কক্ষপথে উপস্থিতি বজায় রাখবে নাসা, এবার ভরসা বেসরকারি মহাকাশ স্টেশন

সকাল সকাল ডেস্ক

ওয়াশিংটন: মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা তাদের মহাকাশ সংক্রান্ত কৌশলে বড় পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে (লো আর্থ অরবিট বা এলইও) নিজেদের উপস্থিতি বজায় রাখতে এবার বেসরকারি সংস্থার তৈরি বাণিজ্যিক মহাকাশ স্টেশনের উপর নির্ভর করার পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থাটি। এই লক্ষ্যে পরবর্তী প্রজন্মের বাণিজ্যিক মহাকাশ স্টেশন তৈরির জন্য শুক্রবার বেসরকারি মহাকাশ সংস্থাগুলির কাছ থেকে প্রস্তাব আহ্বান করেছে নাসা।

নাসার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের জাতীয় মহাকাশ নীতি অনুযায়ী ২০৩০ সালের নাগাদ আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনকে (আইএসএস) পরিষেবা থেকে অবসর দেওয়া হবে। এরপর নাসা নিজস্ব কোনও নতুন মহাকাশ স্টেশন নির্মাণের পরিবর্তে বেসরকারি সংস্থার পরিচালিত বাণিজ্যিক মহাকাশ স্টেশনগুলির পরিষেবা গ্রহণ করবে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে মহাকাশ স্টেশনের মালিক ও পরিচালকের পরিবর্তে পরিষেবা গ্রহণকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করবে নাসা।

আইজ্যাকম্যান জানান, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও মহাকাশ গবেষণা, নতুন প্রযুক্তির উন্নয়ন, মহাকাশচারীদের প্রশিক্ষণ এবং চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহে ভবিষ্যৎ অভিযানের প্রস্তুতির জন্য নাসার মহাকাশ স্টেশনের প্রয়োজন থাকবে। বাণিজ্যিক মহাকাশ স্টেশনগুলি সেই প্রয়োজন পূরণ করতে সক্ষম হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি। পাশাপাশি এই উদ্যোগ মার্কিন মহাকাশ শিল্পের সামনে নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি করবে এবং নাসাকে আরও জটিল মহাকাশ অভিযানে নিজেদের সম্পদ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ দেবে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে ‘প্রজেক্ট ইগনিশন’ কর্মসূচির পর থেকেই পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের রূপরেখা নির্ধারণ করতে বেসরকারি মহাকাশ সংস্থাগুলির সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে নাসা। এরই অংশ হিসেবে গত জুলাই মাসে ‘রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল’-এর একটি খসড়া প্রকাশ করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে আগ্রহী সংস্থাগুলিকে প্রস্তাবিত চুক্তি ও পরিষেবা সংগ্রহের প্রক্রিয়া পর্যালোচনা এবং মতামত জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়। নাসার দাবি, এই উদ্যোগে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গিয়েছে।

আইজ্যাকম্যান স্পষ্ট জানিয়েছেন, পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে নিজেদের উপস্থিতি কোনও অবস্থাতেই প্রত্যাহার করবে না নাসা। বরং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে মহাকাশ গবেষণা ও অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।

নাসার এই কৌশল পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ বিপুল ব্যয় সাশ্রয়। নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার জন্য বিপুল অর্থ খরচ করতে হয়। বেসরকারি মহাকাশ স্টেশনের পরিষেবা গ্রহণ করলে নাসার কয়েকশো কোটি ডলার সাশ্রয় হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই অর্থ ও সম্পদ নাসা তাদের উচ্চাভিলাষী ‘আর্টেমিস’ কর্মসূচিতে ব্যবহার করতে পারবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি মানব উপস্থিতির পরিকাঠামো গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

জানা গিয়েছে, ‘অ্যাক্সিওম স্পেস’ এবং ‘ব্লু অরিজিন’-এর মতো বেসরকারি মহাকাশ সংস্থাগুলিকে নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন তৈরির জন্য আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে নাসা। এর ফলে আগামী দিনে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে মহাকাশ গবেষণা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বেসরকারি সংস্থাগুলির ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Read More News

ইন্ডি জোটের বৈঠকে অখিলেশের অনুপস্থিতির কারণ জানালেন বেণুগোপাল, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি কংগ্রেসের

সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডি জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সমাজবাদী...

Read More