সকাল সকাল ডেস্ক
বিশাখাপত্তনম : দেশের সামুদ্রিক শক্তি আরও প্রসারিত এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সুদৃঢ় করতে একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত সামুদ্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। মঙ্গলবার বিশাখাপত্তনমের হিন্দুস্তান শিপইয়ার্ড লিমিটেডে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই বার্তা দেন।
এদিন হিন্দুস্তান শিপইয়ার্ডে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ‘ফ্লিট সাপোর্ট শিপ-১’-এর আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। পাশাপাশি ‘ফ্লিট সাপোর্ট শিপ-৫’-এর কিল স্থাপন এবং আধুনিকীকৃত ‘স্লিপওয়ে-৪’ ও ৩০০ টনের গোলিয়াথ ক্রেনের উদ্বোধন করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজনাথ সিং বলেন, ফ্লিট সাপোর্ট শিপ-১-এর সূচনা, ফ্লিট সাপোর্ট শিপ-৫-এর কিল স্থাপন এবং হিন্দুস্তান শিপইয়ার্ডের উন্নত পরিকাঠামোর উদ্বোধন—প্রতিটি পদক্ষেপই ভারতের সামুদ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তাঁর মতে, ‘সূর্য’ নামের প্রথম ফ্লিট সাপোর্ট শিপ ভারতীয় নৌবাহিনীর কর্মক্ষমতা, কাজের পরিধি এবং দীর্ঘসময় কার্যকর থাকার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে।
তিনি আরও বলেন, শিপইয়ার্ডের নতুন স্লিপওয়ে এবং গোলিয়াথ ক্রেনের মতো উন্নত পরিকাঠামো হিন্দুস্তান শিপইয়ার্ডকে বৃহৎ আকারের জাহাজ নির্মাণ প্রকল্প আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে সক্ষম করবে।
ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতীয় নৌবাহিনীর ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে ভারতীয় নৌবাহিনী নিজেকে প্রথম সাড়াদানকারী এবং নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা সহযোগী হিসেবে প্রমাণ করেছে। মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা, জলদস্যু দমন অভিযান, নাগরিক উদ্ধার এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নৌবাহিনীর অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
আট দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতের প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক প্রয়োজন মেটাতে হিন্দুস্তান শিপইয়ার্ডের ভূমিকার প্রশংসা করেন রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটিকে ‘মিনীরত্ন ক্যাটাগরি-১’ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এই স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠানটির ইতিবাচক পরিবর্তন এবং উন্নত আর্থিক কাঠামোর প্রতিফলন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
একটি শক্তিশালী জাতীয় সামুদ্রিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিভিন্ন ক্ষেত্রের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, নৌবাহিনী, শিপইয়ার্ড, প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পক্ষেত্র, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং নবীন উদ্যোগগুলিকে একটি সমন্বিত দল হিসেবে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
জাহাজ নির্মাণ ক্ষেত্রে ভারতের বিপুল সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, এই সম্ভাবনাকে বাস্তব সক্ষমতা এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক দক্ষতায় রূপান্তর করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। সেই লক্ষ্য পূরণে সময়মতো জাহাজ সরবরাহ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নিজস্ব নকশা তৈরির দক্ষতা, শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থা, দক্ষ মানবসম্পদ, পরিকাঠামো সম্প্রসারণ এবং ব্যয়-সাশ্রয়ী উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
গত এক দশকে দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রে পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তাঁর দাবি, ভারত ধীরে ধীরে আমদানিনির্ভর প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তিতে উন্নত ব্যবস্থা ও প্ল্যাটফর্মের নকশা এবং উৎপাদনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
২০৪৭ সালের মধ্যে আত্মনির্ভর, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ অর্থনীতির ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ভারতকে বিশ্বের বুকে একটি মর্যাদাপূর্ণ উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য বলেও জানান রাজনাথ সিং।
No Comment! Be the first one.