ঘরেই কেরাটিন ট্রিটমেন্ট, চুল হবে মসৃণ ও ঝলমলে

সকাল সকাল ডেস্ক

আধুনিক জীবনে ধুলোবালি, দূষণ, বিভিন্ন ধরনের হেয়ার প্রোডাক্ট এবং ঘন ঘন হিট স্টাইলিংয়ের কারণে চুল শুষ্ক, রুক্ষ ও প্রাণহীন হয়ে পড়তে পারে। চুলের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতাও কমে যেতে পারে। এই সমস্যা সামলাতে অনেকেই স্যালনে কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করান। তবে তা বেশ ব্যয়বহুল হতে পারে এবং কিছু স্যালন ট্রিটমেন্টে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান ব্যবহৃত হয়। তাই বাড়িতেই চুলকে মসৃণ ও উজ্জ্বল রাখতে প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।

কেরাটিন কী?

কেরাটিন হল এক ধরনের প্রোটিন, যা স্বাভাবিকভাবেই চুল, ত্বক ও নখের গঠনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চুলের বাইরের স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হলে চুল রুক্ষ, শুষ্ক, জটপ্রবণ এবং সহজে ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। পেশাদার কেরাটিন ট্রিটমেন্ট মূলত চুলের উপরিভাগ মসৃণ করতে এবং ফ্রিজ কমাতে সাহায্য করে।

তবে বাড়িতে কলা, দই বা অ্যালোভেরা দিয়ে তৈরি মাস্ককে পেশাদার কেরাটিন ট্রিটমেন্টের সমতুল্য ভাবা ঠিক নয়। এই ধরনের উপাদান মূলত চুলকে কন্ডিশনিং ও ময়েশ্চারাইজ করতে সাহায্য করতে পারে।

ঘরে কীভাবে তৈরি করবেন হেয়ার মাস্ক?

এই হেয়ার মাস্ক তৈরির জন্য প্রয়োজন একটি পাকা কলা, ২ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল, ১ টেবিল চামচ টক দই, ১ টেবিল চামচ মধু, ১ টেবিল চামচ নারকেল তেল এবং চাইলে একটি ভিটামিন-ই ক্যাপসুল।

সব উপাদান ভালোভাবে ব্লেন্ড করে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। এরপর চুলে সমানভাবে লাগিয়ে প্রায় ৩০ মিনিট রেখে দিন। তারপর মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ভালোভাবে চুল পরিষ্কার করে নিন। কলা যাতে চুলে আটকে না থাকে, সে জন্য মিশ্রণটি একেবারে মসৃণ করে নেওয়া জরুরি।

কী উপকার মিলতে পারে?

এই ধরনের ময়েশ্চারাইজিং হেয়ার মাস্ক শুষ্ক ও রুক্ষ চুলকে সাময়িকভাবে নরম এবং মসৃণ রাখতে সাহায্য করতে পারে। নারকেল তেল চুলে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে, অন্যদিকে দই, মধু ও অ্যালোভেরা চুলের কন্ডিশনিংয়ে কাজে আসতে পারে। ফলে চুল তুলনামূলকভাবে চকচকে ও সহজে সামলানো যেতে পারে।

তবে এই মাস্ক চুলের হারানো কেরাটিন সরাসরি ফিরিয়ে দেয় বা চুলের কেরাটিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়—এমন দাবি করার যথেষ্ট ভিত্তি নেই। এটি মূলত একটি ঘরোয়া কন্ডিশনিং হেয়ার মাস্ক হিসেবেই ব্যবহার করা ভালো।

ব্যবহারের সময় কী খেয়াল রাখবেন?

চুলের ক্ষতি কমাতে অতিরিক্ত হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেইটনার বা কার্লারের ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। চুলের ধরন অনুযায়ী মাইল্ড শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করা যেতে পারে। সপ্তাহে একবার এই ধরনের হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করাই যথেষ্ট।

অ্যালোভেরা, দই বা অন্য কোনও উপাদানে অ্যালার্জি বা সংবেদনশীলতা থাকলে মাস্কটি ব্যবহার না করাই ভালো। প্রথমবার ব্যবহারের আগে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া যেতে পারে। মাথার ত্বকে চুলকানি, জ্বালা, খুশকি বা অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যা থাকলে ঘরোয়া পদ্ধতির উপর নির্ভর না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Read More News

ইন্ডি জোটের বৈঠকে অখিলেশের অনুপস্থিতির কারণ জানালেন বেণুগোপাল, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি কংগ্রেসের

সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডি জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সমাজবাদী...

Read More