সকাল সকাল ডেস্ক
নয়াদিল্লি: ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই)। তবে ক্রিপ্টো সম্পদের সঙ্গে যুক্ত ‘ডিস্ট্রিবিউটেড লেজার টেকনোলজি’ এবং টোকেনাইজেশনের মতো প্রযুক্তির বিকাশ ও উদ্ভাবনে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। শনিবার নয়াদিল্লিতে পঞ্চম কৌটিল্য অর্থনৈতিক সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা।
আরবিআই গভর্নর জানান, ক্রিপ্টো সম্পদের অন্তর্নিহিত প্রযুক্তিতে উদ্ভাবনকে সমর্থন করে ভারত। এর মধ্যে রয়েছে ডিস্ট্রিবিউটেড লেজার টেকনোলজি বা বিকেন্দ্রীভূত ডিজিটাল হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা এবং টোকেনাইজেশন। তবে দেশের আর্থিক সার্বভৌমত্ব, মুদ্রানীতি এবং মূলধনের প্রবাহের উপর সম্ভাব্য প্রভাবের কারণে ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
মালহোত্রা বলেন, আরবিআইয়ের দৃষ্টিভঙ্গি হল ক্রিপ্টোর অন্তর্নিহিত প্রযুক্তিকে উৎসাহ দেওয়া। এই ধরনের কয়েকটি প্রযুক্তি কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের নিজস্ব ব্যবস্থার পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমেও ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু ক্রিপ্টোকারেন্সির ক্ষেত্রে সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে।
ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে উদ্বেগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আরবিআই গভর্নর জানান, অর্থের অভিন্ন মূল্য বা ‘ইউনিফর্মিটি অব মানি’ এবং মুদ্রানীতির উপর সম্ভাব্য প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে যে সব উদীয়মান অর্থনীতিতে মূলধনের প্রবাহের উপর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, সেখানে ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যাপক ব্যবহার নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
সীমান্ত-পার লেনদেনকেও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন মালহোত্রা। তাঁর মতে, এই ধরনের লেনদেন আরও সহজ ও কার্যকর করার ক্ষেত্রে সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক ডিজিটাল কারেন্সি বা সিবিডিসি-সহ বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করা যেতে পারে।
বিশ্বজুড়ে সরকারি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং বন্ডের ইল্ড বা প্রতিফলনের হার নিয়ে আরবিআই গভর্নর বলেন, এর ওঠানামা মূলত চাহিদা ও জোগানের উপর নির্ভরশীল। বর্তমানে সরকার এবং বেসরকারি ক্ষেত্র—দুই পক্ষেরই ব্যয় বেড়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-সংক্রান্ত বিনিয়োগও বেসরকারি ক্ষেত্রের ব্যয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
মালহোত্রার বক্তব্য, অর্থের জোগান সীমিত হলেও ব্যয়ের চাহিদা বেড়েছে। সরকার যেমন বেশি ব্যয় করছে, তেমনই বেসরকারি সংস্থাগুলির বিনিয়োগও বাড়ছে। বিশেষ করে এআই ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগের প্রভাব রয়েছে। এর ফলে বন্ডের প্রতিফলন এবং ঋণের মাত্রাতেও প্রভাব পড়ছে।
আরবিআই গভর্নর আরও জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের মুদ্রানীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরীণ আর্থিক বৃদ্ধি এবং মূল্যবৃদ্ধির পরিস্থিতিকেই মূলত গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে সুদের হারের পরিবর্তনের প্রভাব ভারতীয় অর্থনীতিতেও পড়ে। দেশের প্রকৃত সুদের হারের উপরও তার প্রভাব দেখা যায়।
উল্লেখ্য, ডিস্ট্রিবিউটেড লেজার টেকনোলজি এমন একটি ডিজিটাল ব্যবস্থা, যেখানে কোনও লেনদেন বা রেকর্ড একটি কেন্দ্রীয় জায়গায় সংরক্ষিত না থেকে নেটওয়ার্কের একাধিক কম্পিউটারে ভাগ করে রাখা হয়। অন্য দিকে, টোকেনাইজেশনের মাধ্যমে কোনও বাস্তব সম্পদের মালিকানা বা সংবেদনশীল তথ্যকে সুরক্ষিত ডিজিটাল কোড বা ‘টোকেন’-এ রূপান্তর করা হয়।
No Comment! Be the first one.