শেয়ার বাজারে বড় ধস, সেনসেক্স পড়ল হাজার পয়েন্ট

সকাল সকাল ডেস্ক

মুম্বই, ১ অক্টোবর: অক্টোবরের প্রথম দিনেই বড় ধাক্কা খেল দেশের শেয়ার বাজার। বৃহস্পতিবার লেনদেন চলাকালীন এক হাজার পয়েন্টেরও বেশি নেমে যায় সেনসেক্স। নিফটিতেও প্রায় ৪০০ পয়েন্টের পতন দেখা যায় এবং সূচক নেমে যায় ২২ হাজার ৩০০-এর নীচে। কয়েক ঘণ্টার এই পতনে বিএসই-তে নথিভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজারমূল্য কমেছে প্রায় ৯ লক্ষ কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টো নাগাদ সেনসেক্সের পতন এক হাজার পয়েন্ট ছাড়িয়ে যায়। দিনের শুরুতে বিএসই-তে নথিভুক্ত সমস্ত সংস্থার সম্মিলিত বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৪৭১.৮৬ লক্ষ কোটি টাকা। দুপুর পৌনে ২টো নাগাদ তা কমে দাঁড়ায় প্রায় ৪৬২.৭২ লক্ষ কোটি টাকায়। অর্থাৎ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিনিয়োগকারীদের সম্পদের বাজারমূল্য প্রায় ৯ লক্ষ কোটি টাকা কমেছে।

বাজারের এই পতনের অন্যতম কারণ হিসেবে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের লাগাতার শেয়ার বিক্রিকে দেখা হচ্ছে। ৩০ সেপ্টেম্বর এক দিনেই বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় বাজারে ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি শেয়ার বিক্রি করেছেন। আগের দিনের হিসাব যোগ করলে পরপর দু’দিনে বিক্রির অঙ্ক ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ফলে বাজারে ক্রয়ের তুলনায় বিক্রির চাপ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও বাজারের উপর চাপ বাড়িয়েছে। আমেরিকার ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের সুদ ৫.৩ শতাংশের উপরে ওঠায় তুলনামূলক নিরাপদ মার্কিন বন্ডে বিনিয়োগের আকর্ষণ বেড়েছে। এর ফলে ভারতের মতো উদীয়মান বাজার থেকে বিদেশি পুঁজি সরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চাপ বাড়িয়েছে ভারতীয় মুদ্রার দুর্বলতাও। বৃহস্পতিবার ডলারের তুলনায় টাকার দর ৯৬-এর গণ্ডি পেরিয়ে যায়। টাকার মূল্য কমলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে শেয়ার থেকে পাওয়া মুনাফার একটি অংশ মুদ্রা বিনিময়ের সময় কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে বিদেশি লগ্নির ক্ষেত্রে সতর্কতা আরও বাড়তে পারে।

অপরিশোধিত তেলের বাজারেও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইরানকে ঘিরে চলা সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভারত অপরিশোধিত তেলের বড় আমদানিকারক হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সংস্থার উৎপাদন খরচ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। তার প্রভাব সংস্থাগুলির মুনাফার উপরও পড়তে পারে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সেনসেক্স ও নিফটির পতন দিয়ে সমস্ত বিনিয়োগকারীর ক্ষতির পরিমাণ বিচার করা ঠিক নয়। গত কয়েক বছরে বহু খুচরো বিনিয়োগকারী মাঝারি ও ছোট সংস্থার শেয়ারে বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন। ফলে বিভিন্ন পোর্টফোলিয়োয় বাজার পতনের প্রভাবও আলাদা হতে পারে।

গত কয়েক বছরে দেশের শেয়ার বাজারে নতুন খুচরো বিনিয়োগকারীর সংখ্যাও দ্রুত বেড়েছে। তাঁদের একটি বড় অংশ বাজারের ঊর্ধ্বমুখী সময়েই বিনিয়োগ শুরু করেছেন। ফলে বাজারে দ্রুত ও বড় ধরনের পতন নতুন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবারের পতন অবশ্য বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সেপ্টেম্বর মাসেই নিফটি প্রায় ৬.১ শতাংশ এবং সেনসেক্স প্রায় ৫.৮ শতাংশ কমেছিল। একই সময়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির চাপও বেড়েছে। অক্টোবরের শুরুতেও সেই প্রবণতা অব্যাহত থাকায় এখন বাজারের নজর আমেরিকার সুদের হার, ডলারের গতিপ্রকৃতি, অপরিশোধিত তেলের দাম এবং বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

গাভাইয়ের উত্তরসূরি সূর্য কান্ত, শপথ নিলেন সুপ্রিম কোর্টের নতুন প্রধান বিচারপতি

নয়াদিল্লি : সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি পদে শপথ নিলেন বিচারপতি সূর্য কান্ত। বিদায়ী প্রধান...

November 24, 2025

Read More News

ইন্ডি জোটের বৈঠকে অখিলেশের অনুপস্থিতির কারণ জানালেন বেণুগোপাল, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি কংগ্রেসের

সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডি জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সমাজবাদী...

Read More