শর্তসাপেক্ষে জামিন মিলল কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের, নন্দীগ্রামে ভোট প্রচারে বাধা নেই : নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

সকাল সকাল ডেস্ক

কলকাতা, ২৯ সেপ্টেম্বর : আসন্ন নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে বড়সড় স্বস্তি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার উচ্চ আদালত তাঁর বিরুদ্ধে রুজু হওয়া সমস্ত ৬টি মামলাতেই তিন সপ্তাহের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছে। এর ফলে জেল থেকে মুক্ত হয়ে আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি নির্বাচনি প্রচার ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নিতে পারবেন।

উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নন্দীগ্রামের ২ নম্বর ব্লকে ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচার চালানোর সময় আকস্মিকভাবে গ্রেফতার করা হন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে রাতারাতি চড়েছিল রাজনৈতিক পারদ। পুলিশি এই পদক্ষেপটি ২০০৭ সালের নন্দীগ্রামের ঐতিহাসিক ভূমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনের সময় খেজুরি থানায় নথিভুক্ত ১৯ বছরের পুরনো একটি হত্যা মামলার সঙ্গে যুক্ত ছিল। তৎকালীন পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে তৃণমূলের সমর্থনের কথা ঘোষণা করার ঠিক কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই গ্রেফতারির ঘটনা ঘটে। যা নিয়ে শাসকদলের সদিচ্ছা ও উদ্দেশ্য নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছিল বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি।

গ্রেফতারির পর থেকেই মিলন প্রধানের আইনজীবীরা কলকাতা হাইকোর্টে একাধিক আবেদন জানান। ইতিপূর্বে একক বেঞ্চের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য ১৯ বছরের পুরনো মামলায় হঠাৎ পুলিশি তৎপরতা ও প্রডাকশন ওয়ারেন্ট জারি নিয়ে পুলিশকে চরম ভর্ৎসনা করেছিলেন। তবে একাধিক আইনি জটিলতার কারণে সে সময় পূর্ণাঙ্গ স্বস্তি মেলেনি।

অবশেষে মঙ্গলবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চে এই মামলার চূড়ান্ত শুনানি সম্পন্ন হয়। শুনানিকালে বিচারপতি ঘোষ গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে জানান, কেবল নির্বাচনে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাঁকে এই অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া হচ্ছে, বাকি সমস্ত বিষয় মামলার আইনি ভবিষ্যতের ওপর নির্ভর করবে।

উচ্চ আদালত মিলন প্রধানকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিলেও বেশ কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্বাচন ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরপরই তাঁকে বাধ্যতামূলকভাবে হলদিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের মেয়াদ চলাকালীন প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা এবং রাত সাড়ে ৯টায় সংশ্লিষ্ট থানার তদন্তকারী আধিকারিকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রাখতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে ২০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড জমা দিতে হবে।

উচ্চ আদালতের এই স্বস্তিদায়ক রায়ের পর মিলন প্রধানের স্ত্রী অর্পিতা প্রধান প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, তাঁর স্বামীকে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল এবং এখন তিনি পূর্ণ শক্তিতে নির্বাচনে লড়াই করবেন।

Read More News

Read More