সকাল সকাল ডেস্ক
লন্ডন: যুক্তরাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির কাছ থেকে গ্রেপ্তার পাঁচ সন্দেহভাজনকে সোমবার শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি দিয়েছে পুলিশ। বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অপরাধে জড়িত থাকার সন্দেহে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে তদন্ত এখনও চলছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সন্ত্রাসবাদবিরোধী পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনই ব্রিটিশ নাগরিক এবং তাঁদের বয়স ২০ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তাঁরা বিমানঘাঁটির কাছে গিয়েছিলেন কি না। পাশাপাশি এই ঘটনার সঙ্গে কোনও বিদেশি রাষ্ট্র বা গোষ্ঠীর যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করা হচ্ছে।
ব্রিটেনের সন্ত্রাসবাদবিরোধী পুলিশের প্রধান লরেন্স টেলর জানিয়েছেন, পাঁচজনকে কঠোর শর্তে জামিন দেওয়া হলেও তদন্ত শেষ হয়নি। একাধিক দিক থেকে ঘটনার তদন্ত চলছে এবং ওই পাঁচজন এখনও তদন্তের আওতায় রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাত প্রায় ১২টা ৪৫ মিনিটে আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের দিকে তিনটি সন্দেহজনক গাড়ি যাওয়ার খবর পায় গ্লস্টারশায়ার পুলিশ। এরপর বিমানঘাঁটি থেকে প্রায় ৩.২ কিলোমিটার দূরে উইলফোর্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরএএফ ফেয়ারফোর্ড দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রেও ঘাঁটিটির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তদন্তকারীরা এখনও নিশ্চিত নন, কথিত এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে কোনও বিদেশি রাষ্ট্র বা সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে কি না। ইরান ও রাশিয়া-সহ বিদেশি যোগসূত্রের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে ইরানের সরাসরি যোগাযোগের কোনও প্রমাণ পুলিশ প্রকাশ্যে সামনে আনেনি।
লরেন্স টেলরও সরাসরি কোনও দেশের নাম উল্লেখ করেননি। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে অন্য কোনও রাষ্ট্রের হয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কাজ করা ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্ভাব্য ভূমিকা তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, ঘটনার সঙ্গে ইরানের যোগসূত্র থাকার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে লন্ডনে ইরানি দূতাবাস। এক বিবৃতিতে দূতাবাস জানিয়েছে, ব্রিটেনের কিছু ব্যক্তি ও সংবাদমাধ্যমের তোলা অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’। এই ধরনের অভিযোগ যুক্তরাজ্যে ‘ইরানভীতি’ ছড়াতে পারে বলেও দাবি করেছে তেহরান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ঘটনার সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে পাঁচ সন্দেহভাজনকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনাও করেছেন তিনি।
No Comment! Be the first one.