সকাল সকাল ডেস্ক
চামোলি : উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার মায়াপুর-পিপলকোটি এলাকায় টিএইচডিসি-র নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে জল ঢুকে ধস নামার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার পর থেকেই জোরকদমে উদ্ধার অভিযান চলছে। এখনও সুড়ঙ্গে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। খারাপ আবহাওয়ার কারণে তাঁর হেলিকপ্টার অবতরণ করানোও ছিল অত্যন্ত কঠিন। মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধারকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বিষ্ণুগড়-পিপলকোটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টিআরটি সুড়ঙ্গে ধস নামার ফলে প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশ জলমগ্ন হয়ে যায়। প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ ওই সুড়ঙ্গে দুর্ঘটনার সময় ২২ জন শ্রমিক আটকে পড়েছিলেন বলে জানা যায়। জেলাশাসক গৌরব কুমার সারারাত ঘটনাস্থলে থেকে উদ্ধার অভিযান তদারকি করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়াদের নিরাপদে বের করে আনতে উদ্ধারকারী দল নিরন্তর কাজ করে চলেছে। উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রবেশ করা ছয়জন উদ্ধারকর্মী নিরাপদে রয়েছেন। আহতদের গোপেশ্বর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ, পুলিশ ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞ দল যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। তবে সুড়ঙ্গের ভেতরে জল জমে থাকা এবং ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে।
দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন প্রদীপ সিং পাওয়ার, মুকেশ, দুর্লভ শর্মা, বিজয়, জিতেন্দ্র কুমার, লোকেশ্বর এবং ভুবনেশ্বর। প্রদীপ সিং পাওয়ার তেহরি জেলার চম্বা এলাকার গেনওয়াল গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। মুকেশের বাড়ি চামোলি জেলার উরগামে। দুর্লভ শর্মা বিহারের বাসিন্দা এবং বিজয় ও জিতেন্দ্র কুমারের বাড়ি ঝাড়খণ্ডে। লোকেশ্বর ও ভুবনেশ্বরের পরিচয় সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
No Comment! Be the first one.