মার্কিন হামলার পর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি ইরানের, মধ্যপ্রাচ্যে চরম যুদ্ধ পরিস্থিতি

সকাল সকাল ডেস্ক

তেহরান/ওয়াশিংটন/কায়রো/কুয়েত সিটি

: জর্ডানে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিমান হামলা চালানোর পর উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এই হামলার উপযুক্ত জবাব খুব শিগগিরই দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইরান স্বীকার করেছে, রাতভর মার্কিন বিমান হামলায় বুশেহর প্রদেশের তিনটি শহর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ইরানের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও এই প্রদেশেই অবস্থিত।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিক্রিয়াতেই এই সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, আইআরজিসির একাধিক সামরিক ঘাঁটি, কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন স্থাপনা, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র এবং সামুদ্রিক সক্ষমতার অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের মতে, এই অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনা, বাণিজ্যিক জাহাজ এবং উপসাগরীয় দেশগুলিকে সম্ভাব্য হুমকি থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে।

সেন্টকম আরও জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটির উদ্দেশে নিক্ষেপ করা হলেও সেগুলি সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

ইরানের কেশম দ্বীপের স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, বৃহস্পতিবার ভোররাতে মার্কিন বাহিনী একাধিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। স্থানীয় সময় ভোর প্রায় ৩টা ৫০ মিনিটে পরপর তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, একটি ক্ষেপণাস্ত্র আবাসিক এলাকায় আঘাত হানে। হরমোজগান প্রদেশের নিরাপত্তা বিষয়ক উপ-গভর্নরও একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা বুধবার ভোরে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক কমান্ড সেন্টার এবং বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। ইরানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের দাবি, মার্কিন হামলায় বুশেহর, জাম এবং খোরমোজ শহরের আশপাশে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। তবে ইরানের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখনও নিরাপদ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

আইআরজিসির জনসংযোগ শাখা জানিয়েছে, হামলার উপযুক্ত জবাব আজই দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং এই জলপথে কোনও বিদেশি হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না।

এদিকে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশের উত্তরাঞ্চলে একটি চীনা সংস্থার ভবন লক্ষ্য করে চালানো ইরানি হামলায় এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। হামলায় ভবনটিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেজর জেনারেল সৌদ আবদুল আজিজ আল-ওতাইবি। তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

ক্রমবর্ধমান এই সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসংঘ। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস অবিলম্বে সামরিক সংঘাত বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। মহাসচিবের উপ-মুখপাত্র ফারহান হক নিউইয়র্কে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ না নেওয়া হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। তিনি পাকিস্তান, কাতারসহ মধ্যস্থতাকারী দেশগুলিকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

Read More News

ভুরকুন্ডায় শীঘ্রই গড়ে উঠতে পারে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের স্থায়ী ভবন, কেন্দ্রীয় কয়লামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আশ্বাস

সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি, ৩০ জুলাই: ভুরকুন্ডায় কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের স্থায়ী ভবন নির্মাণের...

Read More