সকাল সকাল ডেস্ক।
কলকাতা: ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়া এবং তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনও রোগীর পরিচয় বা পদমর্যাদা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাঁর বক্তব্য, ‘‘রোগীর কোনও জাত, ধর্ম, ধনী-দরিদ্র কিংবা সাংসদ-বিধায়কের ভেদাভেদ থাকে না। চিকিৎসকদের কাছে সকল রোগী সমান। হাইকোর্ট যেভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অতিরিক্ত সুযোগ দিয়েছে, তার জন্য তাঁর কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। সাধারণ মানুষের মতো লাইনে দাঁড়িয়েই চিকিৎসা করানো উচিত ছিল।’’
ডায়মন্ড হারবারে চালু হওয়া ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য প্রকল্প নিয়েও কটাক্ষ করেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের জন্য যে স্বাস্থ্য পরিষেবার কথা বলা হয়েছিল, সেখানে উন্নতমানের চিকিৎসার দাবি বাস্তবে প্রতিফলিত হয়নি। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি ওই পরিষেবা এতটাই উন্নত হয়, তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন নিজের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে বাধ্য হলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, নিজেকে সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরলেও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর নির্ভর করছেন। তাঁর কথায়, ‘‘নিজেকে মাটির ছেলে বলে দাবি করলেও নিজের চিকিৎসার ক্ষেত্রে দেশের পরিবর্তে বিদেশকেই বেছে নিয়েছেন।’’
এছাড়াও বিদেশে চিকিৎসার আড়ালে তদন্তকারী সংস্থা এবং আদালতের প্রক্রিয়া এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনও নথি বা প্রমাণ প্রকাশ করেননি।
চিকিৎসার প্রসঙ্গের পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, অভিষেকের এমবিএ ডিগ্রির বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কেন্দ্রীয় সরকার ও সুপ্রিম কোর্ট আগেই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
No Comment! Be the first one.