সকাল সকাল ডেস্ক
মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের কর্ণসুবর্ণে রেলগেট পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় একটি পুলকার দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় চার শিশু-সহ মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।
দুর্ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সমাজমাধ্যমে শোকপ্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই ঘটনায় কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না এবং তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনার পরই দায়িত্বে থাকা রেল গেটম্যানকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশ। দুর্ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে মৃত প্রত্যেকের পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য এবং আহতদের সম্পূর্ণ চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে থেকে উদ্ধারকাজ ও তদন্তের তদারকি করছেন। স্বাস্থ্য দফতরও পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে, রেল কর্তৃপক্ষও মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছে। দুর্ঘটনায় মৃত তিনজনের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত গেটম্যান প্রায়ই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কাজ করতেন এবং সময়মতো রেলগেট বন্ধ করেননি। পূর্ব রেলের প্রাথমিক তদন্তেও জানা গিয়েছে, ট্রেনটি লেভেল ক্রসিং অতিক্রম করার সময় রেলগেট খোলা ছিল। তবে সিগন্যাল ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ছিল না বলে রেল জানিয়েছে। ফলে তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে এখন গেটম্যানের ভূমিকা।
No Comment! Be the first one.