চুমৌকেদিমা জেলায় চলন্ত সেনা কনভয়কে লক্ষ্য করে বিস্ফোরণ, আহত একাধিক জওয়ান; হামলার তদন্ত শুরু
সকাল সকাল ডেস্ক
নাগাল্যান্ডে আসাম রাইফেলস কনভয়ে বিস্ফোরক হামলা
নাগাল্যান্ডে আসাম রাইফেলস কনভয়ে বিস্ফোরক হামলা ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারতে। চুমৌকেদিমা জেলার সুখোভি গ্রাম এলাকায় চলন্ত আসাম রাইফেলসের একটি কনভয়কে লক্ষ্য করে দূরনিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এই ঘটনায় তিনজন জওয়ান শহিদ হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। প্রতিরক্ষা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নাগাল্যান্ডে আসাম রাইফেলস কনভয়ে বিস্ফোরক হামলা-র পরই এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং হামলাকারীদের খোঁজে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়েছে।
কীভাবে ঘটল হামলা
প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গেছে, সোমবার নিয়মিত টহল ও দায়িত্ব পালনের সময় চলন্ত আসাম রাইফেলসের কনভয়কে লক্ষ্য করে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলেই তিন জওয়ান শহিদ হন।

আহত জওয়ানদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যদিও তাঁদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা যাচ্ছে।
এলাকাজুড়ে জোরদার নিরাপত্তা
নাগাল্যান্ডে আসাম রাইফেলস কনভয়ে বিস্ফোরক হামলা-র পরপরই আসাম রাইফেলস, ডিমাপুর পুলিশ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী যৌথভাবে সুখোভি ও সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।
হামলাকারীদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি গোটা এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়।
হামলার নেপথ্যে কারা
ঘটনার পর অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিক ও কীর্তি চক্র সম্মানপ্রাপ্ত মেজর দিগ্বিজয় সিং রাওয়াত সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, এই হামলার পেছনে একটি সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠনের হাত থাকতে পারে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে একই এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর কনভয়কে লক্ষ্য করে এটি দ্বিতীয় বিস্ফোরণ।
তবে এই দাবির সত্যতা সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। ফলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার জন্য কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ী করা হচ্ছে না।

নাগাল্যান্ড ও উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু এলাকায় অতীতে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর বিচ্ছিন্ন হামলার ঘটনা ঘটেছে। সেই কারণে সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নিয়মিত নিরাপত্তা টহল এবং নজরদারি চালানো হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নাগাল্যান্ডে আসাম রাইফেলস কনভয়ে বিস্ফোরক হামলা নিরাপত্তা ব্যবস্থার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তাই গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ও দুর্গম এলাকায় নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি বক্তব্য ও জনসাধারণের জন্য তথ্য
প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দিয়ে শুধুমাত্র সরকারি সূত্র থেকে প্রকাশিত তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানানো হয়েছে। নাগাল্যান্ডে আসাম রাইফেলস কনভয়ে বিস্ফোরক হামলা-র তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে নতুন তথ্য প্রকাশ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
No Comment! Be the first one.