সকাল সকাল ডেস্ক
Russia-Ukraine War-এ ফের বড়সড় হামলা। কিয়েভ-সহ একাধিক শহরে বিস্ফোরণ, আবাসিক ভবনে আগুন, বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা।
Russia-Ukraine War-এর নতুন অধ্যায়ে ফের রক্তাক্ত হয়ে উঠল ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বড়সড় রুশ হামলার আশঙ্কার কথা জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কেঁপে ওঠে রাজধানীসহ দেশের একাধিক অঞ্চল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত দুই জন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। Russia-Ukraine War-এর সাম্প্রতিক এই হামলা ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
Russia-Ukraine War: কী ঘটেছে কিয়েভে?
বৃহস্পতিবার ভোরের আগে রাজধানী কিয়েভে একের পর এক প্রবল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইউক্রেনীয় প্রশাসনের দাবি, রাশিয়া রাজধানী লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং একাধিক ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।
হামলায় বহু আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিভিন্ন এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ক্ষতির মুখে পড়েছে।

Background: হামলার আগে কী সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন জেলেনস্কি?
হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী রাশিয়া বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ তিনি লেখেন, “আজ রাতেই আমরা সেই হুমকির মুখোমুখি হতে পারি।”
এরপর স্থানীয় সময় রাত ৮টা থেকেই কিয়েভে বিমান হামলার সাইরেন বাজতে শুরু করে। বহু মানুষ মেট্রো স্টেশন ও ভূগর্ভস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।
Official Statement: কী জানাল ইউক্রেন প্রশাসন?
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, হামলার পর অন্তত ১১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, একটি নয়তলা আবাসনের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকারীরা আটকে পড়া বাসিন্দাদের খোঁজ করছেন। এছাড়া একটি অ্যাম্বুলেন্স সাব-স্টেশনে হামলার ফলে চিকিৎসাকর্মীরাও আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে কিয়েভ সিটি মিলিটারি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান তাইমুর তাকাচেঙ্কো জানান, হামলায় দুই জন নিহত এবং অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৫টা পর্যন্ত রাজধানীর অন্তত ২৮টি স্থানে ক্ষয়ক্ষতির খবর নথিভুক্ত হয়েছে।
কোন কোন এলাকায় বেশি ক্ষতি হয়েছে?
Russia-Ukraine War-এর এই হামলায় কিয়েভের শেভচেঙ্কিভস্কি জেলায় একটি বহুতল আবাসন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।
পেচেরস্কি জেলায় আবাসিক ভবনের পাশে অন্তত দুটি স্থানে আগুন লাগে।
সোলোমিয়ানস্কি জেলায় একটি প্রশাসনিক ভবনের কাছে অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং হোলোসিভস্কি জেলার একটি বহুতল ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মধ্য কিয়েভের একটি হোটেলেও হামলার প্রভাব পড়েছে।
Impact: আরও হামলার আশঙ্কা
ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলের জাপোরিজিয়া, নিপ্রোপেত্রোভস্ক ওব্লাস্টের পাভলোহরাদ, উত্তর-পূর্বের সুমি এবং খারকিভেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
তাইমুর তাকাচেঙ্কো সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক দিনেও আরও হামলার আশঙ্কা রয়েছে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, বিস্ফোরণের আগে রুশ ড্রোনের একাধিক বহর কিয়েভ, মিকোলাইভ, কোনোটোপ এবং খেরসনের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
Public Information: কীভাবে পরিচালিত হয় হামলা?
রাত ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ প্রথম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা জারি করা হয়।
প্রায় আধ ঘণ্টা পরে বিমানবাহিনী একই ধরনের সতর্কবার্তা দেয়।
ওপেন-সোর্স পর্যবেক্ষণ সূত্রের দাবি, এই অভিযানে রাশিয়া অন্তত ১০টি বোমারু বিমান ব্যবহার করেছে।
রাত প্রায় ২টো নাগাদ কিয়েভ-সহ একাধিক শহরে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটে।
যুদ্ধের নতুন পর্যায়ে কী ঘটছে?
গত মাসে ইউক্রেনও রাশিয়ার বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ড্রোন অভিযান শুরু করেছে। দ্য কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট, কিয়েভ পোস্ট এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও ভোরের আগে আচমকাই কিয়েভে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যেতে শুরু করে। ইউক্রেনীয় প্রশাসনের দাবি, রাজধানীকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি একাধিক আক্রমণাত্মক ড্রোন ব্যবহার করেছে রাশিয়া।
দূরপাল্লার ড্রোনের মাধ্যমে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে বলে ইউক্রেন জানিয়েছে।
জেলেনস্কির দাবি, এই কৌশলের লক্ষ্য মস্কোকে যুদ্ধ বন্ধে চাপ সৃষ্টি করা।
অন্যদিকে রাশিয়ার দাবি, গত সপ্তাহে এক রাতেই তারা ১২টি অঞ্চলে ৬৬০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন প্রতিহত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, Russia-Ukraine War এখন আরও তীব্র ও প্রযুক্তিনির্ভর পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং দূরপাল্লার হামলার মাত্রা বাড়ায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও ক্রমশ বাড়ছে। যুদ্ধের দ্রুত অবসানের সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত থাকায় ইউক্রেনের মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
No Comment! Be the first one.