সকাল সকাল ডেস্ক
ওয়াশিংটন: ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের শর্ত বাস্তবায়ন নিয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তেহরান যদি চুক্তির শর্ত মেনে না চলে, তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।
সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে চুক্তির প্রতিটি শর্ত যথাযথভাবে পালন করতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওয়াশিংটন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সম্প্রতি দীর্ঘ উত্তেজনা ও সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। কয়েক মাস ধরে চলা সামরিক সংঘর্ষ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর দুই দেশ যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে আলোচনায় বসে।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের জব্দ থাকা অর্থ ছাড়ের পেছনে অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল দেশটির খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাঁর মতে, ওই অর্থের একটি বড় অংশ খাদ্যপণ্য আমদানিতে ব্যয় হবে এবং এর সুফল মার্কিন কৃষকরাও পাবেন।
তবে এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে তেহরান। ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মতি জানিয়েছেন, সমঝোতা স্মারকের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য কেনার কোনো বাধ্যবাধকতা ইরানের নেই। দেশটি নিজস্ব প্রয়োজন ও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।
এদিকে সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে চলমান আলোচনায় বেশ কিছু বিষয়ে অগ্রগতির কথা জানিয়েছে উভয় পক্ষ। আলোচনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে অন্তর্বর্তী সমঝোতায় উল্লিখিত বিভিন্ন বিষয়ে চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
আলোচনার ইতিবাচক পরিবেশের অংশ হিসেবে ইরানের জ্বালানি তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে।
তবে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং লেবাননের পরিস্থিতিসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে এখনও মতপার্থক্য রয়ে গেছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, এসব বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোই আগামী পর্যায়ের আলোচনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য উভয় পক্ষের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি এবং ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন হবে।
No Comment! Be the first one.