ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা, কিন্তু ইরানি হামলায় ইজরায়েলে মৃত ৪; দ্বিধায় জর্জরিত মধ্যপ্রাচ্য

সকাল সকাল ডেস্ক :

ওয়াশিংটন :

মধ্যপ্রাচ্যে টানা ১২ দিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর আশার আলো দেখিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার ভোরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি ঘোষণা করেন, “যুদ্ধবিরতি এখন থেকে কার্যকর হচ্ছে। অনুগ্রহ করে কেউ যুদ্ধবিরতি ভেঙে দুঃসাহসিকতা দেখাবেন না।” তাঁর দাবি অনুযায়ী, ইরান প্রথম ১২ ঘণ্টা এবং ইজরায়েল পরবর্তী ১২ ঘণ্টা যুদ্ধবিরতি বজায় রাখবে। ফলে একটানা ২৪ ঘণ্টা শান্তির পর বারো দিনের এই সংঘর্ষের আনুষ্ঠানিক ইতি ঘটবে।

তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরান তা প্রত্যাখ্যান করে। তেহরান জানায়, কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি বা সামরিক সমঝোতার প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু বিতর্ক তীব্রতর হয় ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বিবৃতিতে। তিনি জানান, ইজরায়েলের আগ্রাসনের জবাবে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী ভোর ৪টা পর্যন্ত ‘শাস্তিমূলক অভিযান’ চালিয়েছে এবং আপাতত তা বন্ধ রয়েছে। তাঁর অন্য একটি পোস্টে আবার উল্লেখ করা হয়, ইরানের আর সংঘর্ষ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা নেই—যদি ইজরায়েল ‘অবৈধ হামলা’ বন্ধ করে।

তবে বাস্তবে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। ইজরায়েল অভিযোগ করে, মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ ইজরায়েলের বেয়ার শেভা শহরে ইরানের ছোঁড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র আবাসিক ভবনে আঘাত হানে, যেখানে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ৪ জনের। আহত অন্তত ৬ জন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম (MDA) নামে ইজরায়েলের জরুরি পরিষেবার মুখপাত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

হামলার সময় বেশিরভাগ বাসিন্দা ঘুমিয়ে ছিলেন বলে জানা গেছে। বিস্ফোরণে পুরো ভবন ধ্বংস হয়ে যায় এবং আশেপাশে থাকা গাড়ি, গাছ ও অন্যান্য ঘরবাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে ট্রাম্প শান্তির বার্তা দিচ্ছেন, অপরদিকে বাস্তবে রক্তক্ষয় থামেনি। তবে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, কারণ দুই দেশের নেতৃত্বের বার্তায় দ্বৈত সুর লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

Read More News

Read More