ইরান যুদ্ধে নিহত সেনাদের স্বজনদের হোয়াইট হাউসের অনুষ্ঠান বয়কট, প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন

সকাল সকাল ডেস্ক

ওয়াশিংটন: ইরানের সঙ্গে চলতি যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাদের স্মরণে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকলেন কয়েক জন নিহত সেনার পরিবারের সদস্য। তাঁদের অভিযোগ, মার্চের ভয়াবহ ড্রোন হামলার আগে ও পরে ঠিক কী ঘটেছিল, কেন পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না এবং সেনাদের নিরাপত্তা নিয়ে আগাম উদ্বেগ কেন যথাযথ গুরুত্ব পায়নি—এই সমস্ত প্রশ্নের এখনও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও মার্কিন সামরিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ‘গোল্ড স্টার’ পরিবারগুলির জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রায় ৪০ জন নিহত মার্কিন সেনার পরিবারের সদস্যদের সম্মান জানানো হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং নিহত সেনাদের স্মরণে মোমবাতি জ্বালান। ইরান যুদ্ধে নিহত সেনাদের পরিবারের পাশাপাশি ভিয়েতনাম যুদ্ধ-সহ অতীতের বিভিন্ন সংঘাতে প্রাণ হারানো মার্কিন সেনাদের স্বজনেরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

তবে ১ মার্চ কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবায় ইরানের ড্রোন হামলায় নিহত ছয় মার্কিন সেনার সব পরিবারের প্রতিনিধিকে অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি। ওই হামলাকে চলতি সংঘাতে মার্কিন বাহিনীর উপর অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে। হামলা থেকে বেঁচে ফেরা কয়েক জন সেনার অভিযোগ, সম্ভাব্য নিশানা হওয়া সত্ত্বেও ঘাঁটিটিতে পর্যাপ্ত ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না। হামলার আগেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছিল বলেও তাঁদের দাবি।

তদন্ত শেষ, তবু রিপোর্ট পাননি পরিবারগুলি

নিহত সেনাদের পরিবারের ক্ষোভের অন্যতম কারণ মার্কিন সেনাবাহিনীর তদন্ত রিপোর্ট। সেনাবাহিনীর দাবি, জুন মাসেই হামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। কিন্তু রিপোর্টের ফলাফল এখনও নিহতদের পরিবারের হাতে পৌঁছয়নি। সেনাবাহিনীর বক্তব্য, রিপোর্টে থাকা সংবেদনশীল ও গোপন তথ্য বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সেই কাজ শেষ হলেই পরিবারের সদস্যদের রিপোর্ট সম্পর্কে জানানো হবে।

তবে এত দীর্ঘ অপেক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিহতদের স্বজনেরা। তাঁদের বক্তব্য, যে ঘটনায় পরিবারের সদস্যের প্রাণ গিয়েছে, সেই ঘটনার তদন্তের ফল জানতে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হলে তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।

নিহত মাস্টার সার্জেন্ট নোয়াহ টিয়েটজেন্সের স্ত্রী মিশেল টিয়েটজেন্স অবশ্য তাঁর কিশোর ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে হোয়াইট হাউসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন। মার্চের ওই হামলাতেই নিহত হন তাঁর স্বামী। মিশেল জানিয়েছেন, স্বামীর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতেই তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাৎ হয়। তবে তাঁর মূল প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও মেলেনি। কী ভাবে তাঁর স্বামীকে প্রাণ হারাতে হল এবং কেন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না—এই প্রশ্নগুলির স্পষ্ট জবাব চান তিনি।

আমন্ত্রণ না পাওয়ারও অভিযোগ

অন্য দিকে, নিহত চিফ ওয়ারেন্ট অফিসার রবার্ট মারজানের স্ত্রী টিনা মারজান দাবি করেছেন, তাঁকে বা তাঁর দুই সন্তানকে ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তাঁর প্রশ্ন, নিহত সেনাদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁদের পরিবারের উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশিত।

মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য, নিহত সেনাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে তাঁদের পূর্ববর্তী অনুরোধ ও পছন্দকে সম্মান করা হয়। আবার কয়েকটি পরিবার জানিয়েছে, আমন্ত্রণ এলেও তা এত দেরিতে পৌঁছেছিল যে তাঁদের পক্ষে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।

ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরেও ক্ষোভ

পরিবারগুলির একাংশের অসন্তোষ আরও বাড়িয়েছে যুদ্ধ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অতীতের কয়েকটি মন্তব্য। সংঘাতের প্রথম দিকে তিনি যুদ্ধকে ‘লিটল এক্সকারশন’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। পরে ‘স্মল পটেটোস’ মন্তব্যও করেন। নিহত সেনাদের কয়েকটি পরিবারের অভিযোগ, এই ধরনের মন্তব্য তাঁদের প্রিয়জনের আত্মত্যাগ এবং পরিবারের শোককে যথাযথ মর্যাদা দেয়নি।

২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত ১৯ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৮০০-র বেশি আহত হয়েছেন বলে হোয়াইট হাউসের অনুষ্ঠান ঘিরে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে নিহত সেনাদের পরিবারের ক্ষোভ এখন আর শুধু একটি স্মরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা বা না থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। যুদ্ধ পরিচালনার সিদ্ধান্ত, সেনাদের নিরাপত্তায় সম্ভাব্য ঘাটতি, তদন্তের স্বচ্ছতা এবং সামরিক নেতৃত্বের দায়বদ্ধতা—সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের উপর চাপ বাড়ছে।

Read More News

ইন্ডি জোটের বৈঠকে অখিলেশের অনুপস্থিতির কারণ জানালেন বেণুগোপাল, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি কংগ্রেসের

সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডি জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সমাজবাদী...

Read More