সকাল সকাল ডেস্ক
ওয়াশিংটন: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ভেঙে পড়েছিল মার্কিন বায়ুসেনার এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান। প্রাণ বাঁচাতে বিমান থেকে ইজেক্ট করেছিলেন দুই সেনা আধিকারিক। তাঁদের মধ্যে পাইলটকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বিমানের ওয়েপন সিস্টেমস অফিসার প্রায় ৫০ ঘণ্টা ইরানের ভূখণ্ডে আটকে ছিলেন। গুরুতর আহত অবস্থায় পাহাড়ি এলাকা পেরিয়ে এবং ইরানি বাহিনীর নজর এড়িয়ে শেষ পর্যন্ত তাঁকে উদ্ধার করে মার্কিন বাহিনী।
গত ২ এপ্রিলের ওই অভিযানে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের মিশন কল সাইন ছিল ‘ড্যুড ৪৪ ব্রাভো’। নিরাপত্তার কারণে তাঁর প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর সঙ্গে থাকা পাইলটের কল সাইন ছিল ‘আলফা’।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইস্ফাহানের দক্ষিণে একটি পাহাড়ি অঞ্চলে অভিযান চালাচ্ছিল এফ-১৫ই বিমানটি। লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক জ্বালানি স্থাপনার কাছাকাছি কয়েকটি শিল্পাঞ্চল। সেই সময় বিমানটি আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
ব্রাভোর বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথমে পরিস্থিতি স্বাভাবিকই ছিল। আচমকা প্রবল আঘাতে বিমানটির নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেয়। বিমানটিকে রক্ষা করার চেষ্টা ব্যর্থ হলে পাইলট এবং ওয়েপন সিস্টেমস অফিসার দু’জনেই ইজেক্ট করার সিদ্ধান্ত নেন।
পাইলট আলফা নিরাপদে মাটিতে নামার পর প্রায় ছ’ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার হন। কিন্তু ব্রাভোর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ছিল অনেক বেশি কঠিন। তাঁর দাবি, ইজেক্ট করার পর প্যারাশুটে সমস্যা দেখা দেয়। মাটিতে পড়ার সময় তিনি গুরুতর আহত হন। পিঠ, হাত ও কাঁধে আঘাত পান বলে জানিয়েছেন তিনি।
এরপর নিজেকে একটি গভীর উপত্যকার মধ্যে আবিষ্কার করেন ব্রাভো। একদিকে গুরুতর শারীরিক আঘাত, অন্যদিকে ইরানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার আশঙ্কা—এই পরিস্থিতিতে এলাকা থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। আহত অবস্থাতেই প্রায় ৭ হাজার ফুট উচ্চতার পাহাড়ি এলাকা অতিক্রম করার চেষ্টা করেন ওই মার্কিন আধিকারিক। নিরাপদ একটি পাহাড়ি খাঁজে পৌঁছে আত্মগোপন করেন।
No Comment! Be the first one.