পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট

সকাল সকাল ডেস্ক

ওয়াশিংটন: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের প্রকাশে বিলম্বের প্রসঙ্গ টেনে পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুললেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে চাপে পড়েছে পাকিস্তান সরকার।

সম্প্রতি একটি পডকাস্টে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ভান্স বলেন, ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশে দেরি হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সংবাদমাধ্যমের পরিবেশ এবং তথ্যপ্রকাশের কাঠামো। তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তান ও কাতারের মতো দেশগুলিতে যুক্তরাষ্ট্রের মতো সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত বাক্-স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পরিসর নেই।

ভান্সের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই সমঝোতা স্মারকের বিষয়বস্তু জনসমক্ষে আনতে আগ্রহী ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতা বিবেচনা করে নথি প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। তাঁর কথায়, যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ মানুষ সরকারি নথি বিশ্লেষণ, পর্যালোচনা এবং তার উপর মতামত গঠনের সুযোগ পায়। কিন্তু সব দেশে সেই ধরনের গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা বা পরিবেশ বিদ্যমান নয়।

উল্লেখ্য, গত ১৫ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তির ঘোষণা করেন। তবে সংশ্লিষ্ট সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ পাঠ্য প্রকাশিত হয় দুই দিন পরে। এই বিলম্বকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বিরোধী রাজনৈতিক শিবির এবং বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

সমালোচকদের একাংশের দাবি ছিল, সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে ইরানকে কোনও বড় ধরনের কূটনৈতিক বা অর্থনৈতিক ছাড় দেওয়া হয়েছে কি না, তা গোপন রাখতেই নথি প্রকাশে বিলম্ব করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাট শিবিরের একাধিক নেতা প্রশাসনের কাছে স্বচ্ছতার দাবি জানান এবং সমঝোতার শর্তাবলি জনসমক্ষে আনার আহ্বান তোলেন।

পরিস্থিতির চাপে শেষ পর্যন্ত বুধবার সমঝোতা স্মারকের সম্পূর্ণ পাঠ্য প্রকাশ করে মার্কিন প্রশাসন। তবে নথি প্রকাশে বিলম্বের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ভান্স যে ভাবে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ টেনে আনেন, তা ইসলামাবাদের জন্য নতুন অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে উষ্ণ হলেও মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে এমন মন্তব্য পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

প্রসঙ্গত, বিশ্ব সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ১৫৩তম। সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপ, সাংবাদিকদের নিরাপত্তাহীনতা এবং তথ্যপ্রকাশে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার মুখে রয়েছে দেশটি।

Read More News

Read More