জ্বালানির দাম বৃদ্ধির জন্য জেলেনস্কিকে দায়ী করলেন ট্রাম্প

সকাল সকাল ডেস্ক

ওয়াশিংটন,। আমেরিকায় ডিজেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধির মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে দায়ী করেছেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও জ্বালানি স্থাপনাগুলিতে ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলার কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়ছে।

রাশিয়ার আন্তর্জাতিক সংবাদ টেলিভিশন নেটওয়ার্ক রাশিয়া টুডে (আরটি)-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকায় ডিজেলের জাতীয় গড় মূল্য চলতি সপ্তাহে প্রথমবার প্রতি গ্যালনে ৬ ডলার অতিক্রম করেছে। শুক্রবার দাম প্রতি গ্যালনে ৬ ডলারের বেশি ছিল। এক সপ্তাহ আগে তা ছিল প্রায় ৫.৮৫ ডলার। গত বছরের একই সময়ে ডিজেলের দাম ছিল প্রতি গ্যালনে প্রায় ৩.৭১ ডলার।

আয়ারল্যান্ড সফরের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, ডিজেলের ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ে তিনি জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনা করেছেন। রাশিয়ায় ডিজেল উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা না চালানোর জন্য ইউক্রেনীয় নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ায় হামলা চালানোর জন্য ইউক্রেনের সামনে আরও অনেক লক্ষ্য রয়েছে। কিন্তু ডিজেল ও জ্বালানি উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত স্থাপনায় হামলা হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে তার প্রভাব পড়তে পারে।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট একই সঙ্গে এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন যে, ডিজেলের বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং আমেরিকা-ইরান উত্তেজনা। পরিবর্তে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং রাশিয়ার জ্বালানি পরিকাঠামোর উপর ইউক্রেনের হামলাকেই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।

তবে বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজেলের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পিছনে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে বেড়ে চলা উত্তেজনাও আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

গত কয়েক মাসে ইউক্রেন রাশিয়ার একাধিক তেল শোধনাগার এবং পেট্রোলিয়াম স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার কারণে রাশিয়ার কিছু অঞ্চলে জ্বালানির সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং দাম বেড়েছে। তবে উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, ডিজেলের তুলনায় পেট্রোলের উপর এসব হামলার প্রভাব বেশি পড়েছে।

দেশীয় বাজারে জ্বালানির ঘাটতি এবং ক্রমবর্ধমান দাম মোকাবিলায় রাশিয়া পেট্রোল, ডিজেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানির উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

ডিজেল রপ্তানির উপর আগেই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। পরে পেট্রোল উৎপাদকদের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধের পরিধি বাড়ানো হয়। ডিজেল রপ্তানির উপর বর্তমান নিষেধাজ্ঞা সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে। প্রয়োজনে এর মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

আমেরিকায় ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু পরিবহণ ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। কৃষি যন্ত্রপাতি, পণ্যবাহী ট্রাক এবং মালবাহী ট্রেনের একটি বড় অংশ ডিজেলের উপর নির্ভরশীল। ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব কৃষি উৎপাদন, খাদ্য পরিবহণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার খরচের উপর পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যপণ্যের মোট খরচের মধ্যে জ্বালানির অংশ অঞ্চল ও পণ্যের ধরন অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। ডিজেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চস্তরে থাকলে শেষ পর্যন্ত তার প্রভাব আমেরিকার সাধারণ উপভোক্তাদের পকেটেও পড়তে পারে।

ডিজেলের দাম নিয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছে।

Read More News

ভারত এখন আত্মবিশ্বাসী ও সক্ষম রাষ্ট্র, বিশ্বমঞ্চে নিয়ম নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে: রাজনাথ সিং

সকাল সকাল ডেস্ক লখনউ : ভারত আজ শুধু বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতি নয়, বরং নিজস্ব সভ্যতা,...

Read More