সকাল সকাল ডেস্ক
ওয়াশিংটন: সব ধরনের ভিসা নয়, বিশ্বজুড়ে শুধুমাত্র অভিবাসী ভিসাপ্রার্থীদের সাক্ষাতের নির্ধারিত সময় সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে আমেরিকা। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্তের জেরে বিভিন্ন দেশে মার্কিন দূতাবাস ও বাণিজ্য দূতাবাসে আগে থেকে নির্ধারিত অভিবাসী ভিসার সাক্ষাতের সময় পরিবর্তন করা হচ্ছে। নতুন সময় পরে জানানো হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিশ্বের সমস্ত মার্কিন দূতাবাস ও বাণিজ্য দূতাবাসে একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সেই কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই অভিবাসী ভিসা সংক্রান্ত সাক্ষাতের সময়সূচিতে সাময়িক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তবে প্রশিক্ষণ কত দিন চলবে বা কবে থেকে স্বাভাবিকভাবে সাক্ষাৎকার শুরু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।
পররাষ্ট্র দফতরের বক্তব্য, প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হল ভিসার আবেদন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের আরও দক্ষ করে তোলা। বিশেষ করে কোনও আবেদনকারী ভবিষ্যতে আমেরিকার সরকারি জনকল্যাণমূলক সুযোগ-সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, তা যাচাইয়ের উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আবেদনকারীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একই ধরনের নিয়ম ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
অভিবাসী ভিসার সাক্ষাতের সময় সাময়িকভাবে স্থগিত করার খবর প্রথম প্রকাশ করে ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন মার্কিন দূতাবাস ও বাণিজ্য দূতাবাসে যাঁদের অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকারের সময় আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল, তাঁদের বৈদ্যুতিন বার্তার মাধ্যমে সময় পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে। নতুন তারিখ পরে জানানো হবে।
দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অভিবাসন নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর প্রশাসন অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রেও একাধিক কঠোর পদক্ষেপ করেছে। ট্রাম্পের দাবি, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা শক্তিশালী করতেই এই পদক্ষেপগুলি নেওয়া হচ্ছে।
তবে প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কয়েকটি পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই আইনি বাধার মুখে পড়েছে। সম্প্রতি আমেরিকার এক বিচারক বাংলাদেশ-সহ ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি নীতি বাতিল করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, ওই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছিলেন।
অন্যদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলি ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, এই ধরনের পদক্ষেপ বৈষম্য বাড়ানোর পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে পারে। বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের উপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনগুলি।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে সেই নীতি বাস্তবায়নে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে তাঁর প্রশাসন। তবে বর্তমান সিদ্ধান্তটি সমস্ত ভিসার ক্ষেত্রে নয়, শুধুমাত্র অভিবাসী ভিসার সাক্ষাতের নির্ধারিত সময়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
No Comment! Be the first one.