সকাল সকাল ডেস্ক
কলকাতা
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ‘কালীঘাট তৃণমূল’ শিবিরের বিধায়কদের জন্য আলাদা বসার ঘর এবং অধিবেশন চলাকালীন বক্তব্য রাখার জন্য পৃথক সময় বরাদ্দের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের পর এই তথ্য প্রকাশ্যে আনেন প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ।
তবে গোটা ঘটনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। বিরোধী শিবিরের এই পরিস্থিতি প্রসঙ্গে কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, কে কাকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মেনে নেবেন বা মানবেন না, তা সম্পূর্ণভাবে তাঁদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সরকারের এ নিয়ে মাথাব্যথা নেই। বরং বিরোধীদের এই অস্থিরতা ও দ্বন্দ্ব তিনি উপভোগ করছেন বলেই মন্তব্য করেন।
তাপস রায় আরও বলেন, সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী কোনও গোষ্ঠী যদি নিজেদের স্বতন্ত্র ব্লক হিসেবে দাবি করে এবং সেই অনুযায়ী আলাদা ঘর বা বক্তব্য রাখার সময় চায়, তাহলে সেই বিষয়ে বিধানসভার স্পিকার নিয়ম মেনেই সিদ্ধান্ত নেবেন।
এদিকে কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন, বিধানসভায় প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বিরোধী দলনেতার জন্য নির্দিষ্ট আসনের পরিবর্তে শোভনদেবকে গুরুত্বপূর্ণ আসনে বসানো হয়েছিল, আর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসন রাখা হয়েছিল কিছুটা দূরে। যদিও এই দাবি খারিজ করে তাপস রায় বলেন, বিরোধী দলনেতার জন্য আলাদা কোনও নির্দিষ্ট আসন রয়েছে বলে তাঁর জানা নেই।
শুধু বিরোধী রাজনীতির প্রসঙ্গেই নয়, এদিন রাজ্যের শিল্প পরিস্থিতি নিয়েও সরব হন শিল্পমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে সুস্পষ্ট শিল্পনীতি ও জমিনীতি ছিল না। ফলে শিল্পপতিদের নানা প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়তে হয়েছে এবং অনেক বিনিয়োগের সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।পাশাপাশি, অতীতে অনুষ্ঠিত আটটি বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিটে ঘোষিত প্রকল্পগুলির বাস্তব অগ্রগতি খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে শিল্প দফতর। কোন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, কোনগুলি আংশিক সম্পন্ন হয়েছে এবং কোন ঘোষণা কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকেছে— তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন তাপস রায়। এই পদক্ষেপের ফলে অতীতের শিল্প সম্মেলনগুলির প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
No Comment! Be the first one.