অসমের প্রান্তে প্রান্তে উদযাপন প্ৰয়াত বহুমুখি রত্নের ৫৩-তম জন্মদিন
সকাল সকাল ডেস্ক।
গুয়াহাটি : আজ ৫৩-তম জন্মদিনের দিন কাহিলিপাড়ার বাড়িতে হাজারো অনুরাগীর উপস্থিতিতে উন্মোচন করা হয়েছে বহুমুখি প্রতিভাসম্পন্ন কিংবদন্তি শিল্পী জুবিন গার্গের আবক্ষ মূর্তি।
আজ ১৮ নভেম্বর, গুয়াহাটিতে হাজার হাজার ভক্তের সমাবেশে অসমের যুবপ্রজন্মের হৃদস্পন্দন অকালপ্রয়াত দুরন্ত বহুমুখী কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার, সুরকার, চিত্রপরিচালক, প্রযোজক, অসমিয়া সংস্কৃতির উজ্জ্বল রত্ন জুবিন গার্গের ৫৩-তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করছে গোটা রাজ্য। কাহিলিপাড়ায় প্রয়তের বাসভবন এবং একাধিক স্মৃতিসৌধকে ভক্তি ও স্মরণের কেন্দ্রে পরিণত করেছে আজ।
গতকাল রাত থেকেই ভক্তরা তাঁর বাড়িতে সমবেত হয়ে প্রয়াত শিল্পীর সম্মানে ভক্তিমূলক এবং তাঁর রচিত মনমুগ্ধকার গান গেয়ে চলেছেন। বাড়ি-প্রাঙ্গণে তাঁর লালিত বকুল গাছের নীচে জুবিন গার্গের একটি আবক্ষ মূর্তি উন্মোচনের মাধ্যমে আবেগঘন বাতাবরণ তৈরি করে।
স্বগৃহে জুবিনের আবক্ষ মূৰ্তির আবরণ উন্মোচন অনুষ্ঠানে হাজারো ভক্তকুলের সঙ্গে ছিলেন তাঁর বাবা কপিল বড়ঠাকুর, স্ত্রী গরিমা গার্গ, পরিবারের অন্যান্য সদস্যগণ। অনুষ্ঠানে এক মর্মান্তিক মুহূর্ত ছিল যখন প্ৰয়াতের বাবা কপিল বড়ঠাকুর তাঁর স্নেহের ‘গোল্ডি’ নামের ছেলের মূর্তিটি আলতো করে স্পর্শ করেছিলেন। সে দৃশ্য দেখে অনেকে কান্নায় ব্যাকুল হয়ে পড়েছিলেন।
এদিকে কাহিলিপাড়া ছাড়াও প্রাণের শিল্পী, অসমের সম্পদ জুবিন গার্গকে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে সোনাপুরের জুবিন ক্ষেত্র এবং সরুসজাই স্টেডিয়ামে। সে সব জায়গায়ও বিশাল সমাবেশ হয়েছে। সোনাপুরের জুবিন ক্ষেত্রে আয়োজকরা একটি রক্তদান শিবির, নাম-প্রসঙ্গ, ‘নাহর’ (নাগেশ্বর)-এর চারা রোপণ এবং সন্ধ্যায় পাঁচ হাজার প্রদীপ জ্বালানো সহ বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। এছাড়া প্রিয় শিল্পীর সম্মানে ৫০০টি আকাশবাতি জ্বালিয়ে রাতের আকাশকে আরও আলোকিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এদিকে আজ ভোর থেকে দিনব্যাপী ভাওনা সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হচ্ছে কিংবদন্তি শিল্পীকে স্মরণীয় কররে রাখতে।
গোটা রাজ্যের উজান থেকে নিম্ন যেমন, ডিব্রগড়, তিনসুকিয়া, শিবসাগর, যোরহাট, গোলাঘাট, শোণিতপুর, নগাঁও, হোজাই, বরাক উপত্যকা, ডিমা হাসাও জেলা, কামরূপের রঙিয়া, পলাশবাড়ি, বরপেটা, বঙাইগাঁও, ধুবড়ি সহ বিভিন্ন স্থানে বিপুল সংখ্যক জনতা সংগীতশিল্পীর জন্মদিন উদযাপন করতে একত্রিত হয়েছেন। দিনটিকে ভক্তি, সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি এবং আন্তরিক স্মরণের একটি শক্তিশালী মিশ্রণে রূপান্তরিত করা হচ্ছে।
প্ৰাণের শিল্পী জুবিন গাৰ্গের নামে মঙ্গলদৈয়ে নামাকরণ করা হয়েছে একটি রাস্তার নাম। মঙ্গলদৈয়ের মিলনপুরের বাসিন্দা সর্বজনীন রাস্তাকে ‘জুবিন পথ’ নামে নামাকরণ করেছেন। এছাড়া প্রিয় শিল্পীর প্ৰিয় গাছ নাগেশ্বরের চারাও মঙ্গলদৈয়ের প্রায় সব গ্রামে রোপণ করেছেন সংশ্লিষ্ট গ্রামের জনতা। মিলনপুরের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মঙ্গলদৈয়ের বিধায়ক বসন্ত দাস, মঙলদৈ উন্নয়ন অধিকরণের অধ্যক্ষ প্ৰতাপ বরদলৈ, পুরপতি নিৰ্মালী দেবী প্রমুখ গ্রামের মানুষ।
No Comment! Be the first one.