সকাল সকাল ডেস্ক
কাঠমান্ডু। নেপালে প্রশিক্ষণরত চিকিৎসকরা শ্রম অধিকার, পরিষেবা সুবিধা এবং কর্মস্থলের অবস্থার উন্নতির দাবিতে শনিবার কাঠমান্ডুর মাইতিঘর মণ্ডলায় বিক্ষোভ করেন।
“জেনজি সরকার, জেনজি ডাক্তারদের ন্যায় দাও”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে একত্রিত হওয়া চিকিৎসকরা সাত দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি প্রকাশ করে সরকার, মেডিকেল এডুকেশন কমিশন, নেপাল মেডিকেল কাউন্সিলসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, প্রশিক্ষণরত চিকিৎসকদের (ইন্টার্ন ও রেসিডেন্ট ডাক্তার) ডিউটি সময় নেপালের শ্রম আইন ২০৭৪ অনুযায়ী দৈনিক সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা এবং সপ্তাহে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে হবে। পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত একদিন বাধ্যতামূলক ছুটি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
তারা আরও দাবি করেন, সব প্রশিক্ষণরত নারী চিকিৎসকদের আইন অনুযায়ী বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি প্রদান করতে হবে এবং মাতৃত্বকালীন ছুটির পর পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া চুক্তিভিত্তিক ও স্থায়ী—উভয় ধরনের নারী স্বাস্থ্যকর্মীদের সমানভাবে মাতৃত্বকালীন সুবিধা দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
প্রশিক্ষণরত চিকিৎসকরা আরও দাবি করেন, সরকারের বাজেটে বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রেসিডেন্ট ডাক্তারদের অষ্টম স্তরের সমতুল্য পারিশ্রমিক দিতে হবে এবং সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করালে শ্রম আইনের অনুযায়ী অতিরিক্ত সময়ের ভাতা প্রদান করতে হবে।
তারা বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকরা স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করে নেপাল মেডিকেল কাউন্সিলে প্রোভিশনাল রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেন। তাই তাদের অন্তত ষষ্ঠ স্তরের সমতুল্য বেতন এবং অতিরিক্ত কাজের জন্য ভাতা প্রদান করা উচিত।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া চিকিৎসকরা জানান, বর্তমান ব্যবস্থা নবীন চিকিৎসকদের জন্য অন্যায্য। শ্রম অধিকার সুরক্ষা, উপযুক্ত পারিশ্রমিক, মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা এবং পড়াশোনার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে।
No Comment! Be the first one.