সকাল সকাল ডেস্ক
তেহরান: পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছেছেন। শনিবার গভীর রাতে তিনি ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দার মোমেনি-র সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর নকভি জানান, তিনি ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ মোজতবা খামেনেই-এর কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দিতে তেহরান এসেছেন। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এই বার্তা পাঠিয়েছেন।
ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা IRNA News Agency-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে সরকারি সফরে তেহরান এসেছিলেন নকভি। এরপর মে মাসের শেষ এবং জুনের শুরুতে তিনি আরও দু’বার সরকারি সফরে ইরান সফর করেন।
শনিবার মধ্যরাতে অনুষ্ঠিত বৈঠকের শেষে ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দার মোমেনি বলেন, পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ এবং দুই দেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মধ্যে বহু মিল রয়েছে। তিনি পাকিস্তানকে ইরানের বন্ধু, ভ্রাতৃপ্রতিম এবং প্রতিবেশী দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
কূটনৈতিক মহলের মতে, নকভির এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনায় ইসলামাবাদের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়া। এ সময় তিনি ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি-সহ একাধিক শীর্ষ ইরানি নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন।
তেহরানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে নকভি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। সূত্রের খবর, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান আলোচনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন।
গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই কিরগিজস্তানে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দার মোমেনির সঙ্গে দু’বার বৈঠক করেছেন নকভি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই আঞ্চলিক সংকটগুলির সমাধান সম্ভব।
নকভি বলেন, “আমি মনে করি এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।” তাঁর এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর আগে ইরানের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছিলেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলি সংঘাত নিরসনকে কেন্দ্র করে একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া তৈরির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
No Comment! Be the first one.