নভেম্বরের ভোটের পরই ইরান যুদ্ধ শেষ হবে, দাবি ট্রাম্পের

সকাল সকাল ডেস্ক

ওয়াশিংটন। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে বলে দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, ইরানের পক্ষে দীর্ঘদিন সংঘাত চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। যদিও মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ মহলের একাংশ দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের আশঙ্কা করছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের কয়েকজন শীর্ষ উপদেষ্টা সতর্ক করেছেন, সংঘাত তাঁর বর্তমান মেয়াদের বাকি সময় পর্যন্তও গড়াতে পারে।

বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, নভেম্বরের নির্বাচন শেষ হওয়ার পরই যুদ্ধ দ্রুত থেমে যাবে। তাঁর আরও অভিযোগ, ইরান বর্তমানে আমেরিকার নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। তবে এই অভিযোগের সমর্থনে বিস্তারিত তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি।

এর মধ্যেই ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ আরও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিচালন পর্ষদ ইরানের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে বিষয়টি রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। প্রস্তাবের পক্ষে ২৩টি দেশ ভোট দিয়েছে। রাশিয়া, চিন ও নাইজার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। আটটি দেশ ভোটদানে বিরত থেকেছে।

ইরানের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থায় ইরানের প্রতিনিধি দাবি করেছেন, আমেরিকার চাপেই এই প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপের কোনও আইনি বা বাস্তব ভিত্তি নেই এবং এর মাধ্যমে সমস্যার সমাধানও হবে না।

অন্যদিকে, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, চলমান সংঘাতে ইরান ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থা আরও বড় সঙ্কটের মুখে পড়তে পারে। ইরানের বর্তমান শাসনের অবসান ঘটানোর পক্ষেও ফের সওয়াল করেছেন তিনি।

যুদ্ধের প্রভাব আন্তর্জাতিক জলপথেও ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। মঙ্গলবার মার্কিন সামরিক অভিযানে পাঁচটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। হামলার আগে জাহাজগুলির কর্মীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে খবর। ফলে ওই ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি।

মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর দাবি, ইরান মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলার চেষ্টা করেছিল। সেই চেষ্টা প্রতিহত করার পরই ইরানি তেলবাহী জাহাজগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ইরান ফের একই ধরনের হামলার চেষ্টা করলে আরও তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করা হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন।

এদিকে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরেও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্ব জ্বালানি পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে খবর। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তেহরান ওই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে অনুমতি এবং নির্দিষ্ট অর্থ দেওয়ার দাবি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে নভেম্বরের নির্বাচনের পর যুদ্ধ দ্রুত শেষ হয়ে যাবে বলে ট্রাম্প দাবি করলেও সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। একদিকে সামরিক হামলা ও পাল্টা হামলা, অন্যদিকে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ এবং হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতা—সব মিলিয়ে ইরান ও আমেরিকার সংঘাত আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

Read More News

ভারত এখন আত্মবিশ্বাসী ও সক্ষম রাষ্ট্র, বিশ্বমঞ্চে নিয়ম নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে: রাজনাথ সিং

সকাল সকাল ডেস্ক লখনউ : ভারত আজ শুধু বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতি নয়, বরং নিজস্ব সভ্যতা,...

Read More