সকাল সকাল ডেস্ক
Iran Conflict ঘিরে নতুন উত্তেজনা। সামরিক বিকল্প নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আলোচনা, প্রয়োজনে তৃতীয়বার হামলার হুঁশিয়ারি দিলেন নেতানিয়াহু।
মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের আশঙ্কা ঘনিয়ে এসেছে। Iran Conflict ঘিরে নতুন করে সামরিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে একাধিক বৈঠক করেছেন। একই সময়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান চালাতে দ্বিধা করবে না ইসরায়েল। ফলে Iran Conflict নিয়ে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ফের অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের টেবিলে একাধিক সামরিক বিকল্প
মার্কিন সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। প্রয়োজনে বৃহৎ আকারের হামলা চালানোর সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হয়েছে।
তবে আপাতত পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু না করে কূটনৈতিক আলোচনার পথেই এগোতে চাইছে হোয়াইট হাউস। প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের সামনে বিভিন্ন সামরিক বিকল্প তুলে ধরা পেন্টাগনের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হলেও ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ইরানবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার নতুন দফার আলোচনার জন্য কাতারের দোহায় পৌঁছেছেন। কাতারি সূত্রের দাবি, সরাসরি বৈঠক না হলেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা চলছে। চলতি সপ্তাহেই দুই দেশের কারিগরি পর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যেও পরোক্ষ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক সংলাপ চললেও ইরানকে ঘিরে ওয়াশিংটন ও তেল আভিভের কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের আলোচনার ফলাফলই নির্ধারণ করতে পারে, অঞ্চলটি স্থিতিশীলতার পথে এগোবে নাকি আবারও বৃহত্তর সংঘাতের মুখোমুখি হবে।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
কূটনীতিকে অগ্রাধিকার, তবুও খোলা সামরিক পথ
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প মনে করছেন এই মুহূর্তে বড় ধরনের সামরিক হামলা শুরু হলে চলমান আলোচনা ভেঙে পড়তে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের মার্কিন লক্ষ্যও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট—যদি তেহরান আলোচনার শর্ত ভঙ্গ করে বা নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে, তাহলে সীমিত আকারের সামরিক অভিযান চালানোর বিকল্প খোলা থাকবে। ফলে Iran Conflict নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি।

নেতানিয়াহুর কড়া বার্তা
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে তৃতীয়বারও সামরিক অভিযান চালানো হবে।
ইসরায়েলের চ্যানেল-১৪-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রী থাকা পর্যন্ত ইরানের হাতে কখনও পরমাণু অস্ত্র পৌঁছাতে দেওয়া হবে না।”
নেতানিয়াহুর দাবি, অতীতেও ইসরায়েল ইরানে অভিযান চালিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না। তাঁর এই মন্তব্যের পর Iran Conflict আরও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
Background: কেন বাড়ছে উত্তেজনা?
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর ইরান পাল্টা হামলা চালায়। ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় এবং কূটনৈতিক সংলাপ শুরু হয়। সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আবারও সামরিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
Official Statement: কী বলছে হোয়াইট হাউস?
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছেন। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এখনও একাধিক কার্যকর বিকল্প রয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের ইরানবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার নতুন দফার আলোচনার জন্য কাতারের দোহায় পৌঁছেছেন। কাতারি সূত্রের দাবি, সরাসরি বৈঠক না হলেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
Public Information: কী হতে পারে পরবর্তী পরিস্থিতি?
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহ মধ্যপ্রাচ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতিও জারি রয়েছে।
যদি আলোচনা সফল হয়, তাহলে অঞ্চলটি নতুন সংঘাত এড়াতে পারে। কিন্তু আলোচনায় অগ্রগতি না হলে Iran Conflict আবারও বৃহত্তর যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও পড়তে পারে।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে নজর দোহায় চলা আলোচনার দিকে। কারণ এই সংলাপের ফলাফলই নির্ধারণ করতে পারে মধ্যপ্রাচ্য শান্তির পথে এগোবে, নাকি আবারও যুদ্ধের আগুনে জড়িয়ে পড়বে।
No Comment! Be the first one.