হোয়াইটহাউসে ড্রোন ও স্নাইপার হামলার পরিকল্পনা ভণ্ডুলের দাবি এফবিআইয়ের

সকাল সকাল ডেস্ক

ওয়াশিংটন: হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত একটি বড় জনসমাগমকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হামলার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এফবিআইয়ের অভিযোগ, অভিযুক্তরা বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন ব্যবহার করে হোয়াইট হাউসের উত্তরাংশে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিল। হামলার উদ্দেশ্য ছিল উপস্থিত অতিথিদের একটি নির্দিষ্ট বহির্গমনপথের দিকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে পরে সেখানে স্নাইপার হামলা চালানো।

ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘ইউএফসি আমেরিকা ২৫০’ অনুষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত। অনুষ্ঠানটি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সম্পন্ন হয়। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রিপাবলিকান নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রতত্ত্বে বিশ্বাসী ছিলেন। তদন্তকারীদের ধারণা, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আদর্শিক ক্ষোভ তাদের কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলেছিল। অভিযুক্তদের একজন নির্দিষ্ট কিছু মার্কিন আইনপ্রণেতাকে লক্ষ্যবস্তু করার আগ্রহও প্রকাশ করেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল এক বিবৃতিতে জানান, গত ১০ জুন সংস্থাটি সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির তথ্য পায় এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। তাঁর দাবি, পরিকল্পনায় যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি ওয়াশিংটন অঞ্চলের বাইরের বাসিন্দা ছিলেন।

হেফাজতে নেওয়া পাঁচজনের মধ্যে অন্তত তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র এবং অস্ত্র আইনের বিভিন্ন ধারায়ও মামলা করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তরা এখনো আদালতে নিজেদের অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি।

মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারেন। তদন্তের সূত্রপাত হয় ওহাইও অঙ্গরাজ্যে এক মায়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে। তিনি পুলিশকে জানান, তাঁর ১৯ বছর বয়সী ছেলে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সংগ্রহ করেছে এবং অনলাইনে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।

এফবিআইয়ের হলফনামা অনুযায়ী, ওই যুবক পরে তদন্তকারীদের কাছে স্বীকার করেন যে তিনি অনুষ্ঠানে সমন্বিত হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে অবগত ছিলেন।

এদিকে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে ফ্রান্সে অবস্থানরত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তিনি এ পরিকল্পিত হামলার বিষয়ে আগে কিছু জানতেন না। অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, হামলার পেছনে কোনো বৃহত্তর নেটওয়ার্ক বা অর্থায়নের উৎস ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ভ্যান্সের মতে, এত বড় পরিসরের হামলার পরিকল্পনা কেবল বিচ্ছিন্ন কয়েকজন ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়। তাঁর ভাষায়, এটি ছিল একটি সুসংগঠিত ও পরিকল্পিত সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্র, যার পেছনের পুরো চক্রকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

Read More News

Read More